আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
উবার ও পাঠাও-এর মতো অ্যাপ নির্ভর পরিবহন সেবা বন্ধের দাবীতে মিরপুরস্থ বিআরটিএ কার্যালয় ঘেরাও      ব্র্যাকসহ ২০টি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে পাকিস্তান ছাড়তে ৬০ দিনের আল্টিমেটাম      ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কে তীব্র যানজট: ২০ কিলোমিটার জট      এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ১৬ হাজার মেগাওয়াট : প্রধানমন্ত্রী      সরকারের ঘোষনা ডিসেম্বর থেকে দাম বৃদ্ধি: নভেম্বর থেকেই নেওয়া হচ্ছে বাড়তি বিদ্যুতের বিল!      র‌্যাব রীতিমতো ছোটখাটো যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে আমাকে তাদের গাড়িতে ওঠায়: ফরহাদ মজহার      থানা চত্ত্বরে ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীকে মঞ্চে নিয়ে এমপি রতনের সমাবেশ!      
ডিএনসিসি’র মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন গুঞ্জন যাদের ঘিরে
Published : Tuesday, 5 December, 2017 at 2:11 AM
ডিএনসিসি’র মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন গুঞ্জন যাদের ঘিরেবিডিহটনিউজ,ঢাকা: আনিসুল হকের মৃত্যুতে গত ১ ডিসেম্বর থেকে শূন্য হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়রের পদটি । পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে শূন্য পদে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই হিসেবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির  মধ্যে ডিএনসিসি’র উপ-নির্বাচন হওয়ার কথা। ডিএনসিসি’র মেয়র প্রার্থী মনোনয়নে এরইমধ্যে  চিন্তাভাবনা শুরু করেছে বিএনপি। দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক কোনও আলোচনা শুরু না হলেও প্রার্থী মনোনয়নে প্রভাব বিস্তার করেন, এমন নেতাদের বাসা-অফিস ও ঘরোয়া আলোচনায় চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রার্থী বাছাইয়ে কয়েকটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে বিএনপি। আর গুরুত্ব বিবেচনা করতে গেলে বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে যুক্ত হবে একাধিক প্রার্থীর নাম।
গত তিন দিনে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তাদের আলোচনায় যেসব ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে তারা হলেন, সাবেক মন্ত্রী মেজর অব. কামরুল ইসলাম, ২০ দলীয় জোটের শরিক বিজেপি’র চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এবং গত নির্বাচনে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও তার পিতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর নাম। এর বাইরে গুলশান এলাকায় বসবাস করেন এমন একজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নামও আলোচনায় এসেছে। 
বিএনপি ও জোট নেতারা জানিয়েছেন, ডিএনসিসির উপ-নির্বাচনে বিএনপির কাছে গুরুত্ব পাবে অনেকগুলো বিষয়। আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে ডিএনসিসি নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। সেই বিবেচনা করে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে যদি প্রার্থী হেরে যান, তাহলে সংসদ নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য। সেদিক থেকে দল নিরপেক্ষ প্রার্থী নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে হবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে বাকি সবগুলো দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমন্বিত প্রার্থী দেওয়া। জাতীয় ঐক্যের একটি প্রক্রিয়াকে ফলপ্রসূ করাও এর উদ্দেশ্য। এতে করে হারলেও ধানের শীষের ওপরে কোনও প্রভাব পড়বে না। এক্ষেত্রে দল নিরপেক্ষ কোনও ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করতে পারে বিএনপি। এই সম্ভাব্য ব্যক্তির নাম এখনও জানা যায়নি।
ডিএনসিসি’র মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন গুঞ্জন যাদের ঘিরেঐকমত্যের ভিত্তিতে আন্দালিভ রহমান পার্থকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। কারণ,আনিসুল হকের মতো ক্লিন ও স্মার্ট ইমেজ রয়েছে পার্থের।২০ দলীয় জোটের শরিক হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে পার্থের রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি।এসব বিষয়কে প্রাধান্য দিলে তাকেও দেখা যেতে পারে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে। পার্থকে প্রার্থী করা হলে মার্কা হিসেবে ধানের শীষই বহাল রাখবে বিএনপি। যদিও আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন,  ‘ইটস টু আরলি। আনিস ভাই মাত্র মারা গেলেন। তার কুলখানিটাও শেষ হলো না। এসব নিয়ে চিন্তা করার সময় আসেনি। নিশ্চয় বেগম জিয়া এ বিষয়ে দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করবেন, এরপরই এ নিয়ে কথা বলা যাবে।’
বিএনপির চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ট একটি সূত্র বলছে, ডিএনসিসি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই করাটাই জটিল প্রক্রিয়া। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনের ওপর প্রভাব বিস্তার, ২০১৫ সালে ‘অভিযুক্ত নির্বাচন’ এবং আনিসুল হকের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার মাত্রা বিবেচনা করলে প্রার্থী নির্ধারণ করাই বিএনপির প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সূত্র জানায়, জোটের বাইরে বাকি দলগুলোর মত থাকলে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না ও বিকল্প ধারার মাহী বি.চৌধুরীকে বিবেচনায় রাখবে বিএনপি। তবে মান্নার অনীহা থাকলে মাহীকে সামনে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে দলটি। এক্ষেত্রে কয়েকটি বাধাও রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচন না হওয়ার পেছনে মাহীর ভূমিকাকে মোটেও খাটো করে দেখছে না বিএনপি। ওই সময়ই তারেক রহমানের সঙ্গেও দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছিল মাহীর, যা এখনও বিদ্যমান। ফলে ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে আনার কাজটিও সারতে হবে মাহীকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহী বি. চৌধুরী নির্বাচন নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তার ভাষ্য, ‘আনিস ভাইয়ের কুলখানি এখনও হয়নি। এসব নিয়ে আলোচনা কেমন শোনায় না?’ মাহী বি. চৌধুরী এও বলেন, ‘ইটস টু আরলি। ক্ষতের দাগ এখনও মুছে নাই। ব্যক্তিগতভাবে আমি আনিস ভাইকে খুব পছন্দ করি। এই দুই-তিন দিনে নির্বাচন নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।’
মন্তব্য জানতে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে পর-পর দুদিন কল করা হলেও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বিএনপি-জোটের শরিক একটি দলের চেয়ারম্যান মনে করেন, মান্না নির্বাচন করতে রাজি হবেন, যদি নির্বাচনি প্রচারণার ব্যয় সংগ্রহ নিশ্চিত হয় তবেই। অর্থনৈতিক সংকট তার কাছে বড় কারণ বলেও দাবি করেন এই নেতা।
স্বতন্ত্র, জোট বা জোটের বাইরে থেকে প্রার্থী নির্ধারণ না হলে এবং বিএনপি দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করলে মেজর অব. কামরুল ইসলামের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে দাবি করেছে চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র। যু্ক্তি হিসেবে সূত্রের ভাষ্য, গুলশান-উত্তরা-বাড্ডা এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য তিনি। দলের ভেতরে সাবেক এই নৌ-পরিবহনমন্ত্রী ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীরও পরিষ্কার ইমেজ রয়েছে। বর্তমানে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন কামরুল ইসলাম।
জানতে চাইলে কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এ সম্পর্কে জানি না। দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার সঙ্গেই কাজ করবো।’
তবে প্রার্থী নির্ধারণ সম্পর্কে বৃহত্তর ঢাকা-৫ আসনে নির্বাচিত দুইবারের সাবেক এই এমপি আরও বলেন, ‘ডিএনসিসিতে প্রার্থী হিসেবে ইয়াং জেনারেশনকে এগিয়ে আসা উচিৎ। এটা আমার মতামত। আমি চাই আনিসুল হক থাকতে উন্নয়নের যে ধারা ছিল, সে ধারাটি অব্যাহত থাকুক। উভয় দলেরই এমন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া উচিৎ, যিনি কাজ জানেন ও কাজ করবেন।’
প্রার্থী মনোনয়নের আলোচনায় গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নাম আসলেও উপ-নির্বাচনে এর সম্ভাবনা কম বলে দাবি দলীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
বিশেষ করে পানামা পেপার, প্যারাডাইজ পেপারসে তাবিথের পিতা আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম আসায় এ নিয়ে নেতিবাচক পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
এছাড়া, বিএনপির একজন নেতা ইতোমধ্যেই অনুসারীদের দিয়ে নিজের নাম প্রার্থী হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়ায় জটিলতার আগাম পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
যদিও গতবার বিশেষ পরিস্থিতির কারণে তাবিথকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও এবার তার পিতা আবদুল আউয়াল মিন্টুও নিজের আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছেন ঘরোয়া পরিবেশে। খোঁজ-খবর নিচ্ছেন উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইনগত দিকগুলো সম্পর্কে।
যদিও রবিবার (৩ ডিসেম্বর) বিকালে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন,‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে নির্বাচন যদি হয়, দল যদি সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচনে যাওয়ার, তাহলে তো প্রার্থী আছেই। এটা নিয়ে ভাবার কিছু নেই। তবে সবচেয়ে বড় কথা, দল কী মনে করে। পার্টির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আর আনিসুল হক প্রয়াত হয়েছেন সদ্যই, এ নিয়ে বরং আরও সময় আছে আলোচনার।’ একই দিনে তার ছেলে তাবিথ আউয়াল মোবাইল মেসেজে বিদেশ থেকে জানিয়েছেন, ‘এই সময়টি ক্ষতির জন্য শোক প্রকাশের পাশাপাশি বিগত আত্মার জীবনকে উপলব্ধি করার জন্য।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাজাহানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি জানায়, তাবিথ আউয়ালকেই   মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।বিএনপিতে যে রীতি রয়েছে এবং তার পিতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর কন্ট্রিবিউশনকে সামনে রেখে সূত্রটির যুক্তি,তাবিথই মনোনয়ন পাবেন শেষ পর্যন্ত।
এদিকে, সোমবার (৪ ডিসেম্বর) থেকে সব আলোচনা-পর্যালোচনার ডালপালা দ্রুতই কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান। তার ভাষ্য, প্রার্থী নির্ধারণ জটিল প্রক্রিয়া হলেও গুজব বন্ধ হয়ে যাবে আজ  রাত থেকেই।
‘দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চীন সফর শেষে সোমবার দুপুর সোয়া দুইটা নাগাদ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন’-বলে জানান চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান। তিনি বলেন, ‘সব ঠিকঠাক থাকলে আজ (সোমবার)রাতেই মহাসচিব চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বসতে পারেন।’
সূত্রের দাবি, মির্জা ফখরুল সোমবার রাতেই ডিএনসিসির উপ-নির্বাচন নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে পারেন। এছাড়া চেয়ারপারসনের মামলার বিষয়গুলো নিয়েও কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারে বিএনপি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন,  ‘উপ-নির্বাচনে তো যাবে বিএনপি। আমি তো মনে করি, যাওয়া উচিৎ।’
প্রার্থী বিষয়ে সাবেক এই স্পিকার বলেন, ‘প্রার্থী তো তাবিথ আউয়াল আছেই। তবে পরিবর্তন হবে কিনা, এটা ম্যাডাম সিদ্ধান্ত নেবেন।’ 
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রবিবার বলেছেন, ‘আগে নির্বাচন কমিশন শিডিউল ঘোষণা করবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী দলে কাজ শুরু হবে,আলোচনা হবে। এরপরই প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে কথা বলা যাবে।’







রাজনীতি পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com