আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
উবার ও পাঠাও-এর মতো অ্যাপ নির্ভর পরিবহন সেবা বন্ধের দাবীতে মিরপুরস্থ বিআরটিএ কার্যালয় ঘেরাও      ব্র্যাকসহ ২০টি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে পাকিস্তান ছাড়তে ৬০ দিনের আল্টিমেটাম      ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কে তীব্র যানজট: ২০ কিলোমিটার জট      এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ১৬ হাজার মেগাওয়াট : প্রধানমন্ত্রী      সরকারের ঘোষনা ডিসেম্বর থেকে দাম বৃদ্ধি: নভেম্বর থেকেই নেওয়া হচ্ছে বাড়তি বিদ্যুতের বিল!      র‌্যাব রীতিমতো ছোটখাটো যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে আমাকে তাদের গাড়িতে ওঠায়: ফরহাদ মজহার      থানা চত্ত্বরে ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীকে মঞ্চে নিয়ে এমপি রতনের সমাবেশ!      
কোন্দল নিরসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা শাজাহানই বিএনপিতে কোন্দল তৈরী করছেন!
Published : Saturday, 25 November, 2017 at 3:41 AM
কোন্দল নিরসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা শাজাহানই বিএনপিতে কোন্দল তৈরী করছেন!বিডিহটনিউজ,ঢাকা: বিএনপির কোন্দল নিরসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা শাজাহানই বিএনপিতে কোন্দল তৈরী করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি দলকে দূর্বল করছেন বলেও অভিযোগ করেছে তার নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালী ৪ আসনের বিএনপির নেতা-কর্মীরা। নোয়াখালী ৪ আসন বরাবরই বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু, ২০০৮ সালের নির্বাচনে নোয়াখালী ৪ আসনটি হারায় বিএনপি। তখনই অভিযোগ উঠেছিল মোহাম্মদ শাজাহানের স্বেচ্ছাচারিতার কারণেই বিএনপির দূর্গের আসনটি হারায় তিনি। কিন্তু, সেই আসনের নোয়াখালী পৌরসভার নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হারুনুর রশিদ আজাদ বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। কিন্তু, এতো কিছুর পরও শাজাহান কোন্দাল তৈরীর নীতিই অবলম্বন করে যান। এবার সেই শাজাহানই পেলেন দলের কোন্দল নিরসনের দায়িত্ব! 
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পূর্ণ দলীয় শক্তি নিয়ে মাঠে থাকার পরিকল্পনা করেছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে দলটি। তৃৃণমূল নেতাকর্মীদের সমস্যা, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত নিরসন এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ সব স্তরের কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়েছে দলটির হাইকমান্ড।
কমিটি পুনর্গঠনে আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী ও তৃণমূল নেতাদের মতামতকে প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতারা যাতে বাদ না পড়েন, সে ব্যাপারে দেয়া হয়েছে বিশেষ নির্দেশ।
নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়টি সমাধান না হলে, তা আদায়ে আন্দোলন জোরদার করবে বিএনপি। হাইকমান্ডের এমন নির্দেশনা পেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছেন। শীর্ষ নেতৃত্বের মতামত ও পরামর্শসহ সার্বিক দিক বিবেচনা করে পুনর্গঠন প্রক্রিয়াটি দ্রুত শেষ করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
হাইকমান্ডের নির্দেশ পেয়ে বুধবারই ঘোষণা করা হয়েছে কক্সবাজার জেলা বিএনপির কমিটি। আরও এক ডজন জেলার নতুন কমিটি পুনর্গঠনের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। দ্রুতই তা শেষ করা হবে। এ ছাড়া যেসব এলাকায় কোন্দল রয়েছে তা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যারা দলে কোন্দল সৃষ্টি করবে বা জিইয়ে রাখবে তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা দলীয় পদ হারাতে পারেন। পাশাপাশি তারা মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে দলটির হাইকমান্ড।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে সাম্প্রতিক রাজনীতি ও দলের করণীয় বিষয়ে নেতাদের কাছ থেকে মতামত নেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দুই বৈঠকেই নেতারা দল গোছানোর পক্ষে মত দেন। তারা বলেন, আন্দোলন বা নির্বাচন উভয়ের জন্যই সংগঠন শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।
সংগঠন ঠিক থাকলে আন্দোলন কিংবা নির্বাচন যে কোনো পদক্ষেপই সফল হওয়া সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া থমকে আছে। এ ছাড়া কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। আগামী নির্বাচনের আগে এসব কোন্দল নিরসন সম্ভব না হলে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নেতাদের এমন মতামতের পরেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। পুনর্গঠনের সর্বশেষ অবস্থা অবহিত হয়ে দ্রুত এ প্রক্রিয়া শেষ করতে নির্দেশ দেন তিনি।
বৈঠকে একাধিক নেতা মতামত দেন, ঢাকায় বসে দল পুনর্গঠন করলে চলবে না। তৃণমূলে গিয়ে তাদের মতামতের ভিত্তিতেই কমিটি করা উচিত। এতে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দলও কমবে। ভাইস চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠকে এক নেতা জানান, আগামী নির্বাচন এবং আন্দোলনকে সামনে রেখে আমাদের দল গোছানো উচিত।
বৈঠকে দলের চেয়ারপারসনের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে এক উপদেষ্টা বলেন, দল যাতে নির্বাচননির্ভর অর্থাৎ এমপি নির্ভর না হয়ে পড়ে সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। যাদের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে তাদের জেলা বা তৃণমূলের দায়িত্ব না দেয়ার পক্ষে মত দেন ওই নেতা। তবে বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে অনেক স্থানে হয়তো এভাবে কমিটি করা সম্ভব না-ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সবার মতামতের ভিত্তিতে কমিটি করা উচিত। যাতে কাউকে দলীয় মনোনয়ন দিলে তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা তার বিরোধিতা না করেন।
আবার দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূল বিশেষ করে সংসদীয় আসনের নেতাদের মতামত নেয়া উচিত বলে মত দেন তিনি। অতীতে দেখা গেছে, যারা বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন তাদের বাদ দিয়ে হঠাৎ করে অচেনা কাউকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারেননি। তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকায় তার পক্ষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেতাকর্মীরা নির্বাচনে নামেননি।
তাই ভবিষ্যতে যাতে এমনটা না হয় সেদিকে বিশেষ নজর দিতে চেয়ারপারসনের প্রতি অনুরোধ জানান ওই নেতা।
উভয় বৈঠকেই দলের কোন্দলের বিষয়টিও উঠে আসে। তারা অভিযোগ করেন, কোন্দলের কারণে দলের সাংগঠনিক শক্তি দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। কেন্দ্রীয় নেতারা এসব কোন্দল জিইয়ে রাখতে ভূমিকা রাখছেন বলেও অভিযোগ করেন কেউ কেউ। সম্প্রতি ফেনীতে চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে হামলার বিষয়টি উল্লেখ করে এক নেতা বলেন, সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণেই বিএনপির ঘাঁটি বলে পরিচিত ফেনীতে গাড়িবহরে হামলার সাহস পেয়েছে ক্ষমতাসীন দল।
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবির মুরাদ বলেন, জেলা কমিটিগুলো দ্রুত পুনর্গঠন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা জিয়া। যেসব জেলায় বিরোধ আছে তা চিহ্নিত করে শিগগির মীমাংসা করার জন্য বলেছেন তিনি। যারা দলে বিভেদ-বিশৃঙ্খলা করবে তাদের বহিষ্কার করা হবে বলে কড়া হুশিয়ারি দেন চেয়ারপারসন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু বলেন, কোন্দল মিটিয়ে দলকে শক্তিশালী করতে নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলে যাতে কোনো দুর্বলতা না থাকে সে জন্য এখন থেকে সবাইকে গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন সংগঠন দ্রুত গোছানোর তাগিদ দেয়ার পাশাপাশি দলে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে তাদেরকে কোনো ছাড় দেয়া যাবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও তৃণমূল পুনর্গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মোহাম্মদ শাজাহান বলেন, এ মুহূর্তে দল পুনর্গঠনের দিকেই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। দ্রুত পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করতে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তার নির্দেশ পেয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটিগুলো দ্রুত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন এবং আন্দোলন উভয়ের জন্য দল শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ ছাড়া যেসব এলাকায় সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে তা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করা হবে। আগামী নির্বাচনে দলের পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে চাই আমরা।
যদিও পুনর্গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মোহাম্মদ শাজাহানের নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালী ৪ আসনে কোন্দল তৈরী করে রাখার অভিযোগ রয়েছে শাহাজানের বিরুদ্ধেই। সাবেক মেয়র এবং নোয়াখালী সদরের জনপ্রিয় নেতা হারুনুর রশিদকে পদ না দিয়ে তাকে এবং তার বিপুল সংখ্যক সমর্থককে দলীয় কার্যক্রমে অংশ না নিতে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মোহাম্মদ শাজাহানের বিরুদ্ধে। নোয়াখালী জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেনকে গুরুত্বপূর্ণ কোন পদ দেওয়া হয়নি। যদিও সরকার বিরোধী আন্দোলনে প্রতিনিয়ত হামলার স্বীকার হয়েছেন এ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন। তারা বাসা এবং চেম্বারে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। সরকার বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন এ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন।  
এছাড়াও একাধিক নিবেদিত এবং জনপ্রিয় বিএনপি নেতাকে শাহাজাহান দলীয় কার্য্যক্রমে নিষ্কিয় করে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 
এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপির নেতা জানান, যাকে বিএনপির কোন্দল নিরসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনিই দলে কোন্দল তৈরী করছেন। তবে কি করে বিএনপির কোন্দল নিরসন হবে?







রাজনীতি পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com