আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
কুমিল্লায় সিভিল সার্জন অফিসের নাম ভাঙ্গিয়ে চলছে ভুয়া হাসপাতাল ও ভুয়া ডাক্তার       বিএনপিতে রাজনীতিকরা উপেক্ষিত: ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের জয়জয়কার!      রামপুরা থানা আওয়ামীলীগের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত নেতারা!      নিষিদ্ধ বিট কয়েনের গোপন বাজারে ছদ্মনামে লেনদেন      বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়াতে মানবপাচারের নতুন রুট ইন্দোনেশিয়া       দিনদিন বাড়ছে ডাক্তারের সংখ্যা: গত পাঁচ বছরে ২৫ হাজার এমবিবিএস ডাক্তার      ডিএনসিসি উপনির্বাচন: আদালতের মাধ্যমে উপনির্বাচন স্থগিত করার আশঙ্কাই সত্য হলো      
চড়া দামে বেচাকেনা হচ্ছে শীতকালীন সবজি
ঝালকাঠিতে তিন দিনের বৃষ্টি-জলাবদ্ধতায় কৃষিখাতে ৬৬ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি
আজমীর হোসেন তালুকদার
Published : Thursday, 23 November, 2017 at 6:08 PM
ঝালকাঠিতে তিন দিনের বৃষ্টি-জলাবদ্ধতায় কৃষিখাতে ৬৬ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি ঝালকাঠি:: ঝালকাঠি জেলায় গত ১৯ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের অতিবৃষ্টির প্রভাবে জলাবদ্ধতার কারনে ৬৬ লাখ ২৫ হাজার টাকার সবজির ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এতে ৭ হাজার ৫০ টি কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝালকাঠি খামারবাড়ি সূত্রে এ তথ্য জানাগেছে। যে কারনে মৌসুমের শুরুতেই ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে শীতকালীন সবজী চড়া দামে বেচাকেনা হচ্ছে বলে খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সাথে আলাপকালে জানাগেছে।
সূত্রমতে জেলার ৩২ ইউনিয়নের ১ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে এবার সবজি আবাদ করা হয়। এসব সবজির মধ্যে কাঁচাকলা, পেপেঁ, লাউ, লালশাক, উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও বরবটি, সিম, করলা গাছের গোড়ায় পানি থাকার কারনে অধিকাংশ গাছ মরে গেছে। 
ঝালকাঠির জগদীশপুর, বাউকাঠি, চামটা, শতদশকাঠি, ভীমরুলী, রামপুর, গৈহার, কাফুরকাঠি, ডুমুরিয়া, খেজুরা, পঞ্জিপুথিপাড়া, বেতরা, আলীপুর ও মিরকাঠি গ্রামে জেলার মধ্যে সবচেয়ে কান্দিতে বেশি সবজি আবাদ হয় বারো মাস। ধান আবাদ হয়না এসব গ্রামে। নারী পুরুষ সবাই মিলে সবজী আবাদ করেই জীবিকা নির্বাহ করে এরা। এখানকার উৎপাদিত সবজি জেলার গন্ডি ছাড়িয়ে পার্শবর্তি জেলায়ও সরবরাহ হয়।
প্রতি বছর শীতের শুরুতেই এখানকার উৎপাদিত সবজী বিক্রি হয় সরাসরি কান্দি থেকেই। বছরের এই শীতের শুরুতে ভোরে কৃষক কৃষানীরা ব্যাস্ত সময় কাটাতো পার্শবর্তী হাট বাজারে বিক্রির জন্য সবজী কাটার কাজে। কিন্তু এবার তার ব্যাতিক্রম। অনেক কৃষক অলস সময় কাটাচ্ছে চায়ের দোকানে। মরে যাওয়ায় অধিকাংশ সবজির ঝাঁকা ও কান্দি গুলো পরে আছে।
তারপরেও বসে নেই এরা। কিস্তি ও সুদের টাকা পরিশোধের জন্য নতুন করে আবাদ শুরু করেছে তারা। এবার আগাম কোন শীতকালিন সবজী উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য কৃষকরা চড়া সুদে ও কিস্তিতে টাকা এনে ক্ষতির কারনে দিশেহারা হয়ে পরেছে। 
এসব গ্রামে কান্দি কেটে সবজি আবাদ করায় অধিকাংশই নষ্ট হওয়ায় আবার নতুন করে তৈরী করা হচ্ছে সবজির কান্দি। শ্রমিক মজুরী বেড়ে যাওয়ায় কৃষক কৃষাণীরা নিজেরাই নেমে পরেছে কাজে। চেষ্ঠা করা হচ্ছে ঘুরে দাড়ানোর। 
শতদশকাঠি গ্রামের কৃষক সুভাষ হালদার জানালেন কিভাবে চলবে সংসার তা ভেবে পাচ্ছিনা। শ্রমিকের মজুরী দিয়ে কাজ করাতে না পারায় আমরাই কান্দিতে নতুন ভাবে শালগম লাগানোর চিন্তা করছি। পাশের কান্দিতে কচু লাগিয়ে ছিলাম। সে গুলো কেটে হাটে নিয়ে যাব। যা পাই তা দিয়ে শালগমের চাড়া কিনে লাগাবো। 
একই গ্রামের কৃষক শুভ রঞ্জণ বড়াল জানালেন, ৩০ হাজার টাকা সুদে এনে সবজি আবাদ করে ছিলাম এনজিও থেকে। বন্যার পানিতে সব শেষ। তাই এখন নিজেই নেমেছি বাঁচার তাগিদে কিছু করার জন্য। খেজুরা গ্রামের আরেক কৃষক দুলাল হালদার বলেন, সুদে টাকা এনে সবজি আবাদ শুরু করতেই গত মাসে জলাবদ্ধতার কারনে বেশির ভাগ গাছ মরে গেছে। 
দের বিঘা জমিতে করলা ও রেখা আবাদ করে ছিলাম। বেশির ভাগ গাছ মরে যাওয়ায় মাত্র ৬ কেজি রেখা ও ১ মণ করলা পেয়েছি। ভাউকাঠি হাটে নিয়ে যা পাই তা দিয়ে এনজিওর সুদের প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ করব। ক্ষতি না হলে এখন অন্তত ৫ মণ করলা এবং ৫/৬ মণ রেখা পেতাম।
জেলার সবজি চাষীদের এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কোন তালিকা বা ক্ষতিপূরণ পাবার উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে ঝালকাঠি খাসার বাড়ির জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কিছুই করার নেই। 
সরকারি ভাবে এদের ক্ষতি পূরণে এখন পর্যন্ত কোন উদ্যোগ নেয়ার সম্ভাবনা দেখছিনা। তবে ক্ষতিগ্রস্থ এসব কৃষকদের ক্ষয় ক্ষয়তির পরিমান নিরুপন করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।







অর্থ ও বাণিজ্য পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com