আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
কুমিল্লায় সিভিল সার্জন অফিসের নাম ভাঙ্গিয়ে চলছে ভুয়া হাসপাতাল ও ভুয়া ডাক্তার       বিএনপিতে রাজনীতিকরা উপেক্ষিত: ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের জয়জয়কার!      রামপুরা থানা আওয়ামীলীগের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত নেতারা!      নিষিদ্ধ বিট কয়েনের গোপন বাজারে ছদ্মনামে লেনদেন      বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়াতে মানবপাচারের নতুন রুট ইন্দোনেশিয়া       দিনদিন বাড়ছে ডাক্তারের সংখ্যা: গত পাঁচ বছরে ২৫ হাজার এমবিবিএস ডাক্তার      ডিএনসিসি উপনির্বাচন: আদালতের মাধ্যমে উপনির্বাচন স্থগিত করার আশঙ্কাই সত্য হলো      
বলিউডে ছবি পরিচালনায় নতুন এক ঝাক মহিলা পরিচালক
Published : Wednesday, 1 November, 2017 at 9:21 AM
বলিউডে ছবি পরিচালনায় নতুন এক ঝাক মহিলা পরিচালকবিনোদন ডেস্ক: তাঁদের পরিচালিত ছবি একশো কোটির ম্যাজিক অঙ্ক থেকে শতহস্ত দূরে। বক্স অফিসের নিরিখে ‘বরেলী কী বরফি’, ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বুরখা’, ‘ডিয়ার মায়া’, ‘আ ডেথ ইন দ্য গঞ্জ’, কোনওটাই সুপারহিট নয়। তবে হিন্দি ছবির নিয়মিত দর্শকের কাছে উপরি উল্লিখিত ছবিগুলোর নাম একেবারে অচেনা নয়। এই ছবিগুলোর পরিচালক মহিলা এবং এগুলি তাঁদের প্রথম বা দ্বিতীয় ছবি (ব্যতিক্রম তনুজা চন্দ্রা)। ছবি নির্মাণের খুঁটিনাটি বিচার করলে ছবিগুলো যে নিখুঁত, তা নয়। তবে বলিউডের বিস্তৃত এবং বৈচিত্রপূর্ণ ল্যান্ডস্কেপে মহিলা পরিচালকদের কাজ যে নজর কাড়ছে, তা নিঃসন্দেহে সাধুবাদযোগ্য। 
এমনটা নয় যে, শুধু এই বছরেই মহিলা পরিচালকদের কাজ সমাদৃত হয়েছে। এক দিকে যেমন স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে ছবি বানিয়েছেন দীপা মেটা, মীরা নায়ার, তেমনই তারকা জৌলুসকে সম্বল করে লার্জার দ্যান লাইফের গল্প বুনেছেন ফরহা খান, জোয়া আখতার। তারকা ও বিষয়ের মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন গৌরী শিণ্ডে। তবে এই ছবিগুলিতে সেই অর্থে কোনও তারকা নেই। আছে আবেগ,   ইচ্ছে-অনিচ্ছের দোলাচল, জটিল মনস্তত্ত্ব ও গল্প বলার নয়া দৃষ্টিভঙ্গি।

অশ্বিনী আইয়ার তিওয়ারি
ছোট শহর বরেলীর অলি-গলিতে বেড়ে ওঠা ত্রিকোণ প্রেমের কাঁচামিঠে রসে নিংড়ানো ‘বরেলী কী বরফি’ দর্শকের ভালবাসা পেয়েছে। চরিত্রায়নকেই অশ্বিনীর দ্বিতীয় ছবির ইউএসপি বলা যায়। তাঁর প্রথম ছবি ‘নীল বাট্টে সন্নাটা’ও ছিল মা-মেয়ের সম্পর্কের রসে জারিত। পারিবারিক গল্প বলতে বেশি আগ্রহ অশ্বিনীর। শিক্ষক বাবা-মায়ের মেয়ে অঙ্কে ভীতির কারণে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হননি। বেছে নিয়েছিলেন বিজ্ঞাপন সংস্থার কাজ। পরিচালক স্বামী নীতীশ তিওয়ারির ছবিতে আর্ট ডিজাইনিংয়ের দায়িত্বে থাকেন অশ্বিনী। আর তাঁর ছবির চিত্রনাট্য লেখার দায়িত্ব থাকে নীতীশের।
 
অলঙ্কৃতা শ্রীবাস্তব
তাঁর দ্বিতীয় ছবি ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বুরখা’র মুক্তি ঘিরে ছিল সেন্সর-বিতর্ক। কারণ ছবির বিষয় ‘মহিলা ফ্যান্টাসির ঘনঘটা’। দেহরাদূনে বোর্ডিং স্কুলে পড়ার সময়ে এক সিনিয়রের বানানো ছবি দেখেই স্থির করেছিলেন, তিনিও ছবি বানাবেন। তাঁর মায়ের সূত্রেই পরিচালক প্রকাশ ঝায়ের সঙ্গে আলাপ অলঙ্কৃতার। দিল্লির লেডি শ্রীরাম কলেজ থেকে স্নাতক, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পড়াশোনা। তবে মাস্টার ডিগ্রি পাওয়ার আগেই প্রকাশের সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেন অলঙ্কৃতা। দীর্ঘ আট বছর সহকারী হিসেবে কাজ করার পরে পরিচালক হিসেবে ডেবিউ করেন ‘টার্নিং থার্টি’ দিয়ে। 
 
সুনয়না ভাটনগর
‘ডিয়ার মায়া’ ছবি দিয়ে এ বছরই বলিউডে পা রেখেছেন পরিচালক সুনয়না ভাটনগর। তাঁর গুরু পরিচালক ইমতিয়াজ আলি। লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্স অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পরে ভারতে ফেরেন সুনয়না। ইমতিয়াজের ‘জব উই মেট’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। সেই ছবির সাফল্যের পরে ধারাবাহিক ভাবে ইমতিয়াজের সঙ্গে কাজ করতে থাকেন। ‘লভ আজ কাল’, ‘রকস্টার’-এর মতো ছবিও ছিল তাঁর ঝুলিতে। সাইফ আলি খানের প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকেও চিত্রনাট্যকারের প্রস্তাব আসে সুনয়নার কাছে। তাঁর মতে ‘ডিয়ার মায়া’ পরিণত বোধের ছবি।
 
তনুজা চন্দ্রা
এই নতুনদের দলে একমাত্র পুরনো সদস্য তনুজা চন্দ্রা। এই মাসেই মুক্তি পাবে তাঁর নির্দেশিত ছবি ‘করিব করিব সিঙ্গল’। যার মুখ্য ভূমিকায় ইরফান খান। নব্বইয়ের দশকের শেষে তনুজা নির্দেশিত ‘দুশমন’ ও ‘সংঘর্ষ’ সাড়া ফেলেছিল। ওই ছবি দুটোয় হিংসা, বিকৃত মানসিকতা, সামাজিক সমস্যাকে তুলে ধরেছিলেন তনুজা। তাঁর নতুন রমকম আবর্তিত হবে এই প্রজন্মের নন-কমিটাল সম্পর্ক ঘিরে। ১৯৯৫ সালে টেলিভিশন সিরিজ ‘জমিন আসমান’ দিয়ে কেরিয়ার শুরু করেন তনুজা। কালজয়ী ছবি ‘দিল তো পাগল হ্যায়’-এর চিত্রনাট্য লিখেছিলেন তনুজা। লিখেছেন ‘জখম’-এর মতো সংবেদনশীল ছবির চিত্রনাট্যও।
 
কঙ্কনা সেনশর্মা
ভাল অভিনেত্রীর পাশাপাশি তিনি যে কত ভাল পরিচালক, তার প্রমাণ দিলেন প্রথম ছবিতেই। সম্পর্কের টানাপড়েন, যৌনতা, ব্যক্তিত্বের সংঘাত, সর্বোপরি অবুঝ মনের জটিলতার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে তাঁর ছবি ‘আ ডেথ ইন দ্য গঞ্জ’-এ। এই ধরনের ছবি বাণিজ্যিক ভাবে সফল হবে না, জানেন কঙ্কনা। তবুও তিনি ‘মশলা মাখানো’ ছবি বানাবেন না। অচেনা পথে ছকভাঙা গল্প বলতেই তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ।
তালিকায় আছেন আরও দু’জন। এই মাসেই মুক্তি পাচ্ছে রাখি শাণ্ডিল্যর ‘রিবন’ এবং রত্না সিংহের ‘শাদি মে জরুর আনা’। এঁরাও ডেবিউ পরিচালক।
অলঙ্কৃতা বলেছিলেন, ভারতে মহিলা পরিচালকের সংখ্যা বাড়লে গল্পের ধরন কতটা বদলাবে, সেটা এখনই বলা যায় না। সংখ্যাটা অন্তত বাড়ুক। সেটাও বা কম কী!







বিনোদন পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com