আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
উবার ও পাঠাও-এর মতো অ্যাপ নির্ভর পরিবহন সেবা বন্ধের দাবীতে মিরপুরস্থ বিআরটিএ কার্যালয় ঘেরাও      ব্র্যাকসহ ২০টি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে পাকিস্তান ছাড়তে ৬০ দিনের আল্টিমেটাম      ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কে তীব্র যানজট: ২০ কিলোমিটার জট      এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ১৬ হাজার মেগাওয়াট : প্রধানমন্ত্রী      সরকারের ঘোষনা ডিসেম্বর থেকে দাম বৃদ্ধি: নভেম্বর থেকেই নেওয়া হচ্ছে বাড়তি বিদ্যুতের বিল!      র‌্যাব রীতিমতো ছোটখাটো যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে আমাকে তাদের গাড়িতে ওঠায়: ফরহাদ মজহার      থানা চত্ত্বরে ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীকে মঞ্চে নিয়ে এমপি রতনের সমাবেশ!      
ভাসানচরে কি আদৌ রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন সম্ভব?
Published : Friday, 20 October, 2017 at 5:40 PM
ভাসানচরনোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের বুকে ভেসে থাকা বিচ্ছিন্ন চরটিতে যাওয়া যেকোনও রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চারের চেয়ে কম নয়। চরটিতে যেতে শুধু অনুকূল সময়ের জন্যই অপেক্ষা করতে হয়েছে সাতটি দিন। সামান্য মেঘলা আকাশ দেখেই কোনও মাঝি সাগরপথে আড়াই ঘণ্টা পাড়ি দিয়ে চরটিতে যেতে রাজি হন না। 
মিয়ানমার থেকে সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে পুনর্বাসনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর চরটি বাসযোগ্য করতে নৌবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা ভাসানচর পরিদর্শনও করেছেন। কিন্তু ভাসানচর কতটা বাসযোগ্য এ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের মধ্যে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শেড নির্মাণের দায়িত্বে থাকা নৌবাহিনীর কয়েকজন সদস্য জানান, পুরো চরটি কয়েকটি খালের মাধ্যমে বিভক্ত রয়েছে। একেক এলাকার অবস্থান একেক রকম। চরের যে অংশে নৌবাহিনীর সদস্যদের থাকার জন্য বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হচ্ছে সেটি চরের অন্যান্য অংশের তুলনায় কয়েক ফুট উঁচু। কিন্তু এরপরও তাতে রাতের স্বাভাবিক জোয়ারে এক ফুটের মতো পানি ওঠে। ভরা পূর্ণিমা বা অমাবস্যার জোয়ারে তাদের থাকার এলাকাসহ পুরো চরে ৪-৮ ফুট পর্যন্ত পানি জমে যায়। আর মরা কাটালে চরের নিচু এলাকা তলিয়ে যায়।
স্রোতের অনুকূলে উত্তর-পূর্বদিকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা নদী পাড়ি দিয়ে ভাসানচরের দেখা মেলে। চরের কাছাকাছি পৌঁছতেই নদীর ডুবোচরে কয়েকবার নৌকা আটকে যায়। নৌকা থেকে দেখা গেলো চরের পাশে নৌবাহিনীর একটি বড় জলযান। 
চরের মধ্যে বিভিন্ন অংশে কয়েকটি ছরি খাল রয়েছে। চরের দক্ষিণ ও পূর্বাংশ ভাঙছে। তবে গভীর চরে বনায়ন করা হয়েছে। চরে নামার জন্য নৌবাহিনীর একটি ভাসমান পল্টুন রয়েছে। নৌবাহিনীর সদস্যদের বসার জন্য ৫-৬ ফুট উঁচু কয়েকটি টিনের শেড নির্মাণের কাজ চলছে। একটু সামনে গিয়ে দেখা গেলে তাদের থাকার জন্য টিন শেডের আরও একটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ঘরটির চারদিক গ্লাসে মোড়ানো। ঘরটি থেকে ৩০০ গজ দূরে একটি হেলিপ্যাড রয়েছে। সেখান থেকে ঘরটি পর্যন্ত পাঁচ ফুট উচ্চতার একটি পাকা সড়ক করা হয়েছে।জোয়ারের সময় হেলিপ্যাডটিও ডুবে যায়। 
চরের ঠিক মাঝ অংশে জোয়ারের সময় পানিতে ডুবে যায় পুরো চর। হাঁটু পানি ডিঙিয়ে বনের ভেতরে যাওয়ার পর মাঝেমধ্যে কয়েকটি উঁচু এলাকা দেখা যায়। এই এলাকাগুলো স্বাভাবিক জোয়ারে পানি না উঠলেও ভরা পূর্ণিমা বা অমাবস্যায় সব ডুবে যায়।
বেশ কিছুক্ষণ হাঁটার পর কয়েকটি উঁচু জায়গার দেখা মেলে। তাতেও দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। উঁচু এলাকার কেওড়া গাছগুলোতে মাটি থেকে ৪-৭ ফুট পর্যন্ত অংশে পানির সঙ্গে শেওলা বয়ে যাওয়ার চিহ্ন দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই চরে ৬-৭ ফুট পানি ওঠে। স্থানীয় জেলে ও মাঝি-মাল্লারা জানান, চরটি বসবাসের উপযোগী নয়। 
স্থানীয় মেষ পালক জানান, গত ৩ বছর ধরে তারা এই চরে মহিষ পালন করে আসছেন। স্বাভাবিক জোয়ারে পুরো চরে ৩-৪ ফুট পানি ওঠে। আর ভরা পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় স্থানভেদে ৪-৮ ফুট পর্যন্ত পানি ওঠে। জোয়ারের পানি ওঠার কারণে তারা চরে স্থায়ীভাবে থাকতে পারেন না।
মূলত, বনবিভাগ ও জেলা প্রশাসনের নথিপত্রে এই ভাসানচর ‘জালিয়ার চর’ হিসেবে চিহ্নিত। জালিয়ার চর আবার দুটিঅংশে বিভক্ত। একটির নাম জালিয়ার চর, অন্যটি নিউ জালিয়ার চর। এটিকে অনেকেই আবার গাঙ্গুরিয়ার চর বলেও ডাকে। জালিয়ার চরের অন্তত পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে আরও একটি চর রয়েছে। এটির নাম ঠেঙ্গারচর।
রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে প্রথম অবস্থায় নথিপত্র দেখে ঠেঙ্গারচরের কথা বলা হলেও প্রশাসনের লোকজন ভুলে জালিয়ার চরে যান। তারা নদীপথে জালিয়ার চরে পৌঁছার পর সেই চরটিকেই ঠেঙ্গারচর মনে করেন। সে থেকে জালিয়ার চরকে ঠেঙ্গারচর হিসেবেও ডাকা হচ্ছে। সর্বশেষ, ঠেঙ্গারচর নামটি শ্রুতিমধুর না হওয়ায় নাম পাল্টে ভাসানচর রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 
ভাসানচরের পশ্চিম ও পূর্বপাশে দুটি ছরি খাল রয়েছে। এছাড়াও অন্তত অর্ধশতাধিক ছোট-বড় খাল রয়েছে। যেগুলো চরকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করেছে। এই চরের নাম ঠেঙ্গারচর নয়, জাল্ল্যারচর (জেলের চর)। বনবিভাগ জালিয়ার চর বলে। ঠেঙ্গারচর আরও  দক্ষিণে। কিন্তু এই চরেই (জাল্ল্যারচর বা জালিয়ার চর) রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের মতে, এখানে মানুষ বসবাস করতে হলে আরও অন্তত ৮/১০ বছর সময় লাগবে। কারণ, এখনও চরটি উঁচু নয়। তাছাড়া, চরের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। জোয়ারে পানি ওঠে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পানির সঙ্গে পলি জমে চরটি আরও উঁচু হবে। গাছগুলো আরও বড় হবে। ধীরে ধীরে চর বসবাসের উপযোগী হবে। তিনি প্রশ্ন করেন, এখন যে স্থানে জেলে ও বাথানরাই থাকতে পারছে না, সেখানে মানুষ থাকবে কিভাবে?
তাদের মতে, সরকার যদি ব্লক নির্মাণের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিহত করে তাহলে চরটি স্থায়ীত্ব পাবে। কিন্তু বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে চরে পানি ও পলি উঠতে পারবে না। ফলে চর উঁচু হবে না। এতে চর নিচু হওয়ায় বর্ষা বা ভরা জোয়ারের সময় বৃষ্টির পানি সরতে পারবে না। তখন পুরো চরটিই আবার সাগরে পরিণত হবে।
ভাসানচর বিষয়ে সম্প্রতি সরেজমিন প্রতিবেদন তৈরি করেন হাতিয়ার নলচিরা রেঞ্চের ওছখালী বিট কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান। ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বয়ারচর চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ভাসানচর ৩৫ কিলোমিটার এবং মূল ভূখণ্ডের নলচিরা ঘাট থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। নদীপথে স্রোতে অনুকূলে এ চরে যেতে চেয়ারম্যান ঘাট থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা এবং নলচিরা ঘাট থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। এছাড়া, বৈরী আবহাওয়ায় চরের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকে।
স্থানীয় একটি সূত্র বলেন, ভাসানচরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন হবে দুরূহ। কারণ, এই চরের সঙ্গে ভালো কোনও যাতায়াত ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া হাতিয়া, সুবর্ণচর বা নোয়াখালী সদর দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এমনিতেই বর্ষা মৌসুমে উপকূলে দীর্ঘসময় বৈরী আবহাওয়া থাকে। তখন এ চরের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকে।
১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের বন্যার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সেই বন্যায় হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপের একজন মানুষও বাঁচেনি। সব মানুষ জোয়ারের পানির সঙ্গে সাগরে ভেসে গেছে। নিঝুম দ্বীপ থেকেও ভাসানচর অারও নিচু।
হাতিয়ার এ চরটি বসবাসের উপযোগী কি না জানতে চাইলে নোয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সেটা আমরা বলবো না। সরকার আমাদের থেকে একটা মতামত চেয়েছে, আমরা তা দিয়েছি। সেখানে যেটা বসবাসযোগ্য নয়, আমরা সেটাকে বসবাসযোগ্য না বলে জানিয়েছে।’
এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘চরটির বাস্তব চিত্র আপনারা যা দেখেছেন আমরাও তা-ই দেখেছি। সরকার যদি চায় আমরা সেখানে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন করব, না চাইলে নয়। বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপরেই নির্ভর করে।’
ভাসানচররোহিঙ্গা পুনর্বাসনের নির্ধারিত স্থান নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বিচ্ছিন্ন চর ভাসানচর। জেলা সদর নোয়াখালী থেকে ৭২ কিলোমিটার এবং উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চরটি জোয়ারে ডুবে, ভাটায় ভাসে। সাধারণ জোয়ারে চরের অধিকাংশ এলাকা থাকে তিন থেকে চার ফুট পানির নিচে। ভরা পূর্ণিমায় চার থেকে আট ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। ওই সময় দূর থেকে চরটিকে সাগরের বুকে ভাসমান ভেলার মতো দেখায়।
এ কারণে বর্তমানে চরটি বাস উপযোগী নয় বলে মনে করা হচ্ছে। এ অবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চরটি বসবাস উপযোগী করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম ও জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব আলম তালুকদার।
স্থানীয় জেলেরা জানান, স্বাভাবিক জোয়ারে চরের দুই-তৃতীয়াংশ ডুবে যায়। ভরা পূর্ণিমায় চরে ৪ থেকে ৮ ফুট পর্যন্ত পানি ওঠে। এ কারণে এখনও এই চরে জনবসতি শুরু হয়নি। চরটিতে বর্তমানে অনেক মহিষ রয়েছে। এসব মহিষ দেখাশোনার জন্য ৬-৭ জন বাথান (রাখাল) রয়েছেন। তবে তারাও চরে থাকতে পারেন না। স্বাভাবিক জোয়ারে অবস্থান করলেও ভরা পূর্ণিমায় তারা মূল ভূখণ্ডে ফিরে যান। ওই সময় দূর থেকে চরটিকে সাগরের বুকে ভাসমান ভেলার মতো দেখায়।
রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের সরকারি ঘোষণার পর চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবেদীন ভাসানচর পরিদর্শনে যান। এরপর গত মাসের ২৮ তারিখ যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। মন্ত্রী যেদিন চর পরিদর্শনে যান, সেদিনও পুরো চর পানিতে তলিয়ে ছিল।
স্থানীয় জেলে রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা গত ৪-৫ বছর ধরে এই চরে মাছ ধরি। প্রায়ই দেখি জোয়ারের সময় চরের সব এলাকা ডুবে যায়। এই চরটি আশপাশের অন্যান্য চরের তুলনায় অনেক নিচু। আগামী কয়েকদিন পর অমাবস্যার জোয়ারে আবারও পুরো চর ডুবে যাবে। কোনও মানুষ এখানে বসবাস করতে পারে না।’
ভাসানচরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর গত ৬ ফেব্রুয়ারি সরেজমিন পরিদর্শন করে সরকারকে প্রতিবেদন দিয়েছে নোয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগ। তাতে বলা হয়ছে, চরটি প্রতিনিয়ত জোয়ার-ভাটায় নিমজ্জিত হয়। শুষ্ক মৌসুমে কিছু অংশ উঁচু দেখা গেলেও অমাবস্যা-পূর্ণিমার অতি জোয়ারে এবং ভরা বর্ষা মৌসুমে পুরোপুরি ডুবে যায়। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসেও ভাসানচর আক্রান্ত হয়। এতে কোনও ফসল হয় না। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও নেই। উত্তর ও পশ্চিম তীরে ভীষণ ভাঙন চলছে। মোট কথা, চরটি মানব বসবাসের উপযোগী নয়।
ভাসানচর প্রসঙ্গে নোয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এখনও ভরা জোয়ারের সময় ভাসানচরের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। জোয়ারের সময় পূর্বাংশ দেখা যায় না।’
সরেজমিন একটি অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমরা ভাসানচর গিয়েছিলাম। সেখানে উঁচু জায়গায় একটি সাইনবোর্ড লাগানো ছিল। সেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছি। কিন্তু যখন জোয়ার শুরু হয় তখন ১২-১৪ ফুট পানি উঠে যায়।’
ভাসানচরের বয়স প্রায় ২৫ বছর হলেও অনুকূল পরিবেশ না থাকায় এতে এখনও জনবসতি গড়ে ওঠেনি। বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানিতে পুরো চর প্লাবিত হয়। রোহিঙ্গাদের এই চরে এনে পুনর্বাসন করার আগে বেড়িবাঁধ, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য পুলিশ ক্যাম্প করা দরকার বলে মনে করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌস।
জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘চরে পানি ওঠে। সরকার নিশ্চয় চরটি উপযোগী করেই সেখানে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করবে। এখন সরকার যদি চায় আমরা পুনর্বাসন করবো। আর না চাইলে করবো না। সরকার সে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই আমরা বাস্তবায়ন করবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভাসানচরে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৬ ফুট উঁচু ১৩ কিলোমিটার লম্বা বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বেড়িবাঁধ নির্মাণ হলে তখন আর পানি প্রবেশ করবে না।’ ১৩ কিলোমিটার যথেষ্ট কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবই এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। সরকার চরটিকে উপযোগী করেই সেখানে বসতি গড়ে তুলবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বয়স প্রায় ২৫ বছর হলেও এখনও থিতু হয়নি ভাসানচর। দীর্ঘ সময় ধরে এ চরের জায়গা যেমন মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে উঠেছে, তেমনই ভাঙনও দেখা দিয়েছে এর বিভিন্ন প্রান্তে। মেঘনা হয়ে বঙ্গোপসাগরে যাওয়া বিভিন্ন বাণিজ্যিক নৌযানের মাঝি বা সারেং―যারা অনেক বছর ধরেই ভাসানচরকে দেখছেন, তারা বলছেন বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন প্রান্তের অব্যাহত ভাঙনে এ চরের অন্তত, কয়েক কিলোমিটার এলাকা নদী ও সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বলা যায়,ভাঙা-গড়ার মধ্যেই রয়েছে ভাসানচর।
বনবিভাগের তথ্যেও রয়েছে এর মিল। সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি উপাত্ত দিয়ে জানিয়েছে, এ পর্যন্ত চরের অন্তত ৫-৭ হাজার একর বনভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখনও ভাঙছে বনায়ন করা জমি। তাই ভাঙা-গড়ার এ খেলায় চরটির স্থায়ীত্ব নিয়ে কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের।
বনবিভাগ জানিয়েছে, ভাটার সময় ভাসানচরের আশপাশে প্রায় ৫০ হাজার একর জায়গা ভেসে ওঠে। অথচ এ চরের দৃশ্যমান আয়তন মাত্র ১৩ হাজার একর। এর মধ্যে মোটে ৫ হাজার একর জায়গা এখন বসবাসযোগ্য। অর্থাৎ এখনও জেগে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে আরও প্রায় ৩৫ হাজার একর এলাকা। কিন্তু, সাগর মোহনার এই বিপুল পরিমাণ জায়গা আদৌ জাগবে কিনা, জাগলে কত সময় লাগতে পারে, নাকি বর্তমান দ্বীপচরের আরও বিশাল অংশ ভবিষ্যতে তলিয়ে যাবে তা নিয়ে বিশেষ গবেষণার সুযোগ আছে বলে মনে করে বনবিভাগ।  
সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ চরে ২০০০ সাল থেকে গত অর্থবছর পর্যন্ত ১৬ হাজার ১১১ একর ম্যানগ্রোভ ও ৩৯ একর মাউন্ট (উঁচু স্থানে) বনায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ভাঙনের কবলে পড়ে ১৩ হাজার একরের মতো বনায়ন বিদ্যমান রয়েছে।
ভাসানচরের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব পাশ এখনও ভাঙছে। খুব প্রকটভাবে তা দেখা না গেলেও বনবিভাগেরই তথ্য, বছরে অন্তত আধা কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
৯০ দশকের মাঝামাঝি জেগে ওঠা এ চরে ১০ বছর আগেও মাছ ধরতে যেতেন হাতিয়া উপজেলার নলচিরা ইউনিয়নের পাঞ্চায়েত গ্রামের ৫৮ বছর বয়সী জেলে আলম। তিনি জানান, ১০ বছর আগেও তিনি জালিয়ারচর ও ডুবারচরের মাঝখানের খালে মাছ ধরতে যেতেন। ভাটার সময় খালটি হেঁটে ও জোয়ারে সাঁতরে পারাপার হওয়া যেত। ধীরে ধীরে খালটিতে ভাঙন শুরু হয়। খালটি ভাঙতে ভাঙতে বড় নদীতে পরিণত হওয়ায় গত ১০ বছর ধরে এই খালে আর মাছ ধরা যায় না। এ কারণে এই চরের বনায়ন করা এলাকাও দিন দিন ছোট হয়ে আসছে।
ভাঙনের কারণে ভাসানচরের পুরনো অংশটি ছোট হয়ে আসছে। বনবিভাগের সৃজিত বনভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। চরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ভাঙলেও উত্তর ও পশ্চিম দিকে আবার নতুন করে চর জেগে উঠছে। ফলে এ চরটি কবে স্থায়ী রূপ পাবে তা নিয়ে এখনও সংশয়ে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সম্প্রতি ভাসানচর নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সরেজমিন একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন নলচিরা রেঞ্চের ওছখালী বিট কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান। ওই প্রতিবেদনে তিনি ভাসানচরের গঠন ও প্রকৃতি সম্পর্কে উল্লেখ করেন। এতে তিনি বলেন, ভাসানচর গোলাকৃতির বালি ও কাদাযুক্ত নরম প্রকৃতির মাটি দিয়ে মেঘনার বুকে জেগে ওঠা এমন একটি চর― যার মাঝের অংশ উঁচু ও চারপাশ নিচু। এ কারণে এ চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারে তলিয়ে যায় ও ভাটায় ভেসে ওঠে। চরটির দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে ব্যাপক ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া, চরটির উত্তর ও পূর্ব পাশ এখনও জেগে ওঠার পর্যায়ে থাকায় অতিরিক্ত কাদাময়। তবে চরের মধ্যস্থানে বেশ উঁচু ও শক্ত মাটি রয়েছে। চরটির মাটি নরম প্রকৃতির, কাদাযুক্ত এবং জোয়ারে তলিয়ে যাওয়া ও লোনা পানির অনুপ্রবেশের কারণে সেখানে ফসলের চাষাবাদ অত্যন্ত দুরূহ। তবে চরটির মধ্যস্থানে উঁচু ও বড় বড় কেওড়া গাছ রয়েছে।
ভাঙনের কথা স্বীকার করেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব আলম তালুকদার ও নোয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তহিদুল ইসলাম।
জানতে চাইলে খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম বলেন, ‘ভাসানচর ব্যাপক ভাঙছে। এখন সেই চিন্তা করে লাভ নেই। এই চর স্থায়ী হতে আরও সময় লাগবে। এখন সরকার যদি এ চরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন করে তাহলে নিশ্চয় ভাঙন রোধ করেই পুনর্বাসন করবে।’ তার মতে, চরটি এখনও অনেক কাঁচা। চরের আয়তন ১৩ হাজার একর হলেও এই মুহূর্তে পাঁচ হাজার একর মোটামুটি বাসযোগ্য বলে ধরা যেতে পারে।
একই কথা জানান নোয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তহিদুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, ‘ভাসানচরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ভাঙছে। আবার পশ্চিম দিকে চর জাগছে। এটা আমি গিয়েও দেখে আসছি। আমাদের সৃজনকৃত অনেক বড় বড় গাছ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। একটি চর বা দ্বীপ স্থায়ী হতে ৪০ থেকে ৫০ বছর সময় লাগে। নতুনভাবে চর দেখা দেওয়ার পর আমরা প্রথমে সেই চরে গিয়ে সরেজমিন দেখে আসি। যখন দেখি চরটিতে উড়ি বা বিভিন্ন প্রজাতির ঘাস জন্মায়, তখন আমরা সেখানে বনায়ন করি। উপকূলীয় চরগুলোতে কেওড়া ও গেওয়া গাছই ভালো জন্মায়। এরপর ধীরে ধীরে গাছের শেকড়ের সঙ্গে পলি জমে চর ক্রমান্বয়ে উঁচু ও শক্ত হয়ে ওঠে। এরপর এক পর্যায়ে চরটি বসবাসের উযোগী হয়।’
এই কর্মকর্তা জানান, ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত তারা ভাসানচরে প্রায় ১৬ হাজার একর ম্যানগ্রোভ বনায়ন ও ৪০ একর মাউন্ট বনায়ন করেছেন। বর্তমানে চরটির আয়তন হচ্ছে ১৩ হাজার একর। এর মধ্যে বিশাল অংশ এখনও বনায়ন করা হয়নি। এই কর্মকর্তার কাছে প্রশ্ন ছিল আয়তন যদি ১৩ হাজার একর হয় তাহলে ১৬ হাজার একর বনায়ন কিভাবে করা হয়েছে? জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের বনায়নসহ চরের বিশাল অংশ ভেঙে গেছে। কিছু এলাকা এখনও ভাঙছে।’ 
সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর চরটি সরেজমিন দেখতে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ওইদিন চরটি নিয়ে মন্ত্রীকে একটি প্রেজেন্টেশন দেখায় নৌবাহিনী। এতে ভাঙনের চিত্রটিও উঠে আসে। প্রতিরোধ হিসেবে ভাঙন কবলিত স্থানে নৌবাহিনীর ভাসমান ডক বা পল্টুন বেঁধে দিয়ে সাগরের ঢেউ প্রতিরোধ করে ভাঙন থামানো সম্ভব বলে তাকে জানানো হয়েছে। তাছাড়া, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমেও চরের ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে ওই প্রেজেন্টেশনে বলা হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, চরটির দৈর্ঘ্য ৮ কিলোমিটার ও প্রস্থ সাড়ে ৪ কিলোমিটার। এতে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য ৫০০ একর জমি প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বর্তমানে চরের পশ্চিম ও উত্তর পাশের নদীতে আরও বিশাল আকারে ডুবোচর দেখা যাচ্ছে। ভাটার সময় এই অংশে নৌকা চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়।
নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘চরটি ভাঙছে ঠিক। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ ভাঙন প্রতিরোধ করা যেতে পারে। আমি যেহেতু কারিগরি বিশেষজ্ঞ নই, সেহেতু এ বিষয়ে এর বেশি বলতে পারবো না। বর্তমানে চরে ভূমি জরিপ চলছে। এরপর বিস্তারিত বলা যাবে।’
জেলা প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, কোনও চরই প্রাকৃতিকভাবে মানুষের জন্য বসবাসযোগ্য হয় না। চর জাগার পর ধীরে ধীরে সেটাকে বাস উপযোগী করে তোলা হয়। ভাসানচরে বসতি গড়তে হলে সেখানে বেড়িবাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি রাস্তাঘাট, সাইক্লোন শেল্টার, আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা জোরদারসহ অনেক উন্নয়ন কাজ করতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘আগামী মাসের মধ্যে ভাসানচরে ১৩ কিলোমিটার লম্বা বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।  রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করা হলে পুরো চর বেড়িবাঁধের আওতায় চলে আসবে।’
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ঘোষণার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ভাসানচর এলাকা ঘুরেও এসেছেন। চরটির সম্ভাব্য উন্নয়নের নানা দিক নিয়েও বিশ্লেষণ চলছে। তবে কোন পদ্ধতিতে রোহিঙ্গাদের সেখানে পুনর্বাসন করা হবে সে সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত দুটি পদ্ধতিতে তাদের পুনর্বাসনের চিন্তাভাবনা করছে স্থানীয় প্রশাসন। পদ্ধতিগুলো হচ্ছে—গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ন প্রকল্প। এরমধ্যে পুনর্বাসনের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে গুচ্ছগ্রাম পদ্ধতিটি ভালো বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম এ তথ্য জানিয়েছেন।
ভাসানচর নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন সময়ে সরকারের উচ্চমহল থেকে বিভিন্ন তথ্য ও মতামত চাওয়া হচ্ছে। এসবের ভিত্তিতে সম্প্রতি নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব আলম তালুকদার কী পদ্ধতিতে কতজন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পুনর্বাসন করা যায় সে বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তথ্য চেয়েছেন। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও প্রাথমিকভাবে ওই দুটি পদ্ধতিতে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের বিষয়ে খসড়া রূপরেখা তৈরি করেছেন।
জেলা প্রশাসকের জন্য তৈরি করা ওই খসড়া প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে হাতিয়ার ভাসানচরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বর্তমানে বরাদ্দ করা পাঁচ হাজার একর জমিতে গুচ্ছগ্রাম পদ্ধতিতে আড়াই লাখ ও আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে চার লাখ রোহিঙ্গাকে সেখানে পুনর্বাসন করা যাবে। এ দুটি পদ্ধতির মধ্যে গুচ্ছগ্রাম পদ্ধতিটিকে বেশি মানসম্মত বলা হয়েছে। কারণ, আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস তুলনামূলকভাবে কষ্টসাধ্য।
খসড়া ওই প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, ভাসানচরে বর্তমানে জমির পরিমাণ ১৩ হাজার একর। এরমধ্যে অতি জোয়ারে জলমগ্ন থাকে দুই হাজার ৬০০ একর। পুরো চরটিতে খাল ও শাখা খালের জমির পরিমাণ এক হাজার ৫০০ একর। এতে পাঁচ হাজার একর জমিতে গুচ্ছগ্রাম বা আশ্রয়ন প্রকল্প করা যেতে পারে। বাকি তিন হাজার ৯০০ একর ভূমি বেড়িবাঁধ, রাস্তাঘাট, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, স্যানিটেশন, নলকূপ, পুকুরসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম বলেন, ‘বর্তমানে ভাসানচরের আয়তন ১৩ হাজার একর। এই মুহূর্তে পাঁচ হাজার একর বসবাসযোগ্য। বাকিটা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার উপযোগী হবে। এখানে যদি আমরা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করতে চাই, তাহলে সরকারের পুনর্বাসন পদ্ধতি অনুযায়ী হয়ত গুচ্ছগ্রাম বা আশ্রয়ণ প্রকল্প করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি গুচ্ছগ্রাম করে দেই, তাহলে প্রতি পাঁচ একর জমিতে ৫০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা যাবে। তাহলে চরের পাঁচ হাজার একর জমিতে সর্বমোট ৫০ হাজার পরিবার পুনর্বাসিত হবে। প্রতিটি পরিবারে যদি গড়ে পাঁচ জন করে সদস্য ধরা হয়, তাহলে এ প্রকল্পের মাধ্যমে মোট আড়াই লাখ রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসন করা যাবে।’
অন্যদিকে,আশ্রয়ণ প্রকল্প সম্পর্কে তিনি বলেন,‘পাঁচ হাজার একর জমির মধ্যে প্রতি ৪০ একরে একটি করে মোট ১২৫টি আশ্রয়ণ করা যাবে। প্রতিটিতে ৭০০ পরিবার ধরা হলে প্রতিটি আশ্রয়ণে ৮৭ হাজার ৫০০ পরিবার থাকতে পারবে। একটি পরিবারে যদি পাঁচ জন করে সদস্য ধরা হয় তাহলে আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট চার লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ জন রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসন করা যাবে। গুচ্ছগ্রামের চেয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পে দ্বিগুণ লোক রাখা যায়। তবে এসবই হচ্ছে প্রাথমিক ধারণাভিত্তিক পরিকল্পনা, চূড়ান্ত কিছু নয়।’
গুচ্ছগ্রাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গুচ্ছগ্রামের উপকারিতা হলো- এর বাসিন্দারা বসবাসের জন্য ঘরের পাশাপাশি আঙিনায় কিছু খালি জায়গাও পাবে। একটা পুকুর থাকবে। প্রতি ছয়-সাতটি পরিবারের জন্য একটি গভীর নলকূপ থাকবে। এই ‘গ্রামে’ বসবাসকারীরা স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করতে পারবে। অন্যদিকে,আশ্রয়ণে অনেক মানুষ একসঙ্গে বসবাস করবে,একসঙ্গে থাকবে। সেখানে গুচ্ছগ্রামের মতো এত সুযোগ-সুবিধা থাকবে না।’
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম আরও বলেন,‘শুধু ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতর থেকে ভাসানচরে সরেজমিন জরিপ করার জন্য আমাদের কাছে একটা চিঠি এসেছে। এরই মধ্যে জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন সময়ে ভাসানচরের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হলে আমরা প্রতিবেদন দিয়েছি।’
তিনি আরও যোগ করেন,‘এখনও অনেক কিছু বাকি রয়েছে। জরিপ শেষ হওয়ার পর বলা যাবে সেখানে কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেগুলো বিবেচনা করেই সামনে পা বাড়াতে হবে। বাস্তব চিত্র নিয়ে কথা বলা যাবে। আগে এখানে যেকোনও ইঞ্জিনিয়ারিং স্ট্রাকচার করে ওই চর বসবাসের উপযোগী করতে হবে। তারপর হয়তো বসতি স্থাপন সম্ভব হবে।’
হাতিয়ার ভাসানচর জেলা সদর থেকে প্রায় ৭২ কিলোমিটার দূরে। এটি হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ৩৫ কিলোমিটার এবং নলচিরা ঘাট থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মূল ভূখণ্ড থেকে চরটির দূরত্ব ৭ কিলোমিটার।







জাতীয় পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com