আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন ও ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী       জাতিসংঘের হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডী'র শরণার্থী ক্যাম্প পরির্দশন      যেভাবে মোবাইল ট্র্যাক করে পুলিশ বা হ্যাকাররা      উ. কোরিয়ার ‘সবচেয়ে কাছে’ দিয়ে মার্কিন বোমারু বিমান উড়ে গেল      অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে সেবা বাণিজ্যের অভিযোগ      রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো এখন বৌদ্ধ মগদের দখলে       নিয়োগ পরিক্ষায় প্রক্সি: ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক দুই জনের কারাদন্ড      
বিতর্ক আর সাফল্যময় সাকিব
Published : Thursday, 14 September, 2017 at 5:10 PM, Update: 14.09.2017 5:12:09 PM, Count : 128
বিতর্ক আর সাফল্যময় সাকিবস্পোর্টস ডেস্ক: "সাকিব আল হাসান" মানেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। ক্রিকেট মাঠে তিন সংস্করণেরই এক নম্বর অল রাউন্ডার তিনি। কিন্তু, সব কিছু ছাড়িয়ে সাকিব অর্থই যেন সংবাদ। প্রতিনিয়ত আকর্ষনীয় সংবাদ জন্ম দেওয়ার জন্যই যেন সাকিব। সেটা যেমন সাফল্যের সংবাদ, সেই সাথে রয়েছে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডের সংবাদ। নতুন করে তাকে নিয়ে বিতর্ক আচমকা ৬ মাসের ছুটি চেয়ে বসায়। সাকিব নিজে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু তাতে মন ভরছে না এর মধ্যেই অমরত্ব কিনে ফেলা ক্রিকেটারের ভক্তদের। তাদের আকুতি দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় টেস্ট থেকেই সাকিব ফিরে আসুন। তো ক্রিকেট মাঠে আলো ছড়ানোর পাশাপাশি ৩০ বছরের ক্রিকেটার মাঠের বাইরে নিন্দে-মন্দ নেহাত কম শোনেননি। 
২০০৬ সালে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক। ১১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের মাঝপথেই সাকিব আল হাসান সাফল্যের চূড়ায় উঠেছেন। নামডাক ছড়িয়েছে দেশের আনাচে কানাচে। 'বাংলাদেশের প্রাণ, সাকিব আল হাসান'- বিজ্ঞাপনের ট্যাগলাইনের মতো মানুষের মনে স্থায়ী ঠাঁই করে নিয়েছেন। তবে এই সময়ে নিন্দেও জুটেছে তার। বিতর্কিত ঘটনায় জড়িয়েছেন বারবার। কখনো জরিমানা গুনেছেন। কখনো হয়েছেন নিষিদ্ধ। আবার মাঠে ফিরতেই দেখা মিলেছে 'চ্যাম্পিয়ন' সাকিবের। যেন আরো তেজে। সাকিব সব সময়ই খবরের রসদ জোগান। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট থেকে তার সাময়িক ছুটির আলোচনা এখনো ঝড় তুলছে ক্রিকেট আড্ডার টেবিলগুলোতে কিংবা রকের মোড়ে। সবখানে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের মাত্র বছর তিনেকের মধ্যেই দেশের অধিনায়কত্ব পেয়ে যান। সেটা অবশ্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায়। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজার ডেপুটি হিসেবে। প্রথম টেস্টের শুরুতেই চোটে পড়ে নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি ছিটকে গেলেন। দলের হাল ধরতে হলো সাকিবকেই। ভারপ্রাপ্ত হিসেবে। দ্বিতীয় টেস্ট থেকেই তিনি অধিনায়ক।
মাশরাফি বড় ধরণের ইনজুরিতে মাঠের বাইরে। তাই বিসিবি সাকিবকে অধিনায়ক ও তার প্রিয় বন্ধু তামিম ইকবালকে স্থায়ী সহ অধিনায়ক করে ফেলে বছরখানেক পর। তবে সে দায়িত্ব বেশিদূর টানতে পারেননি তারা। দলের ব্যর্থতায় বছর না পেরুতেই ২০১১ সালে দুজনকেই সরিয়ে দেওয়া হয়।
২০১৩ সালের ডিসেম্বর সিলেটে একটি টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে ঘটে আরেক বিপত্তি। গ্যালারি থেকে এক দর্শকের আপত্তিকর মন্তব্য শুনে খ্যাপে যান সাকিব। ছুটে গিয়ে ওই দর্শকের কলার চেপে ধরে সমালোচিত হয়েছিলেন সেবার। কিন্তু মানুষ যখন তার আপনজনের সাথে খারাপ কিছু হতে দেখে তখন তো সাধারণ মানুষের মতোই প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তাই না? সাকিবকে তাই ওখানে বুঝি দোষ দেওয়ার নেই।
২০১৪ সালে সাকিব জড়িয়ে পড়েন বিব্রতকর এক ঘটনায়। সে বছর ২০ ফেব্রুয়ারি মিরপুরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে চলার সময় ঘটান অস্বস্তিকর ঘটনা। আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ছিলেন সাকিব। ক্যামেরা তার দিকে তাক করতেই অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে বসেন। একেবারে ক্যামেরাকে তাক করে। তুমুল সমালোচনার মধ্যে বিসিবি তাকে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ ও তিন লাখ টাকা জরিমানা করে।
এখানেই বুঝি শুরু, শেষ নয়! কোচের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার, শৃঙ্খলাভঙ্গের আরও ছোটখাটো কারণ মিলিয়ে ২০১৪ সালের জুলাইয়ে তাকে একদম ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। যদিও তখনো ধারাবাহিক পারফর্মার। সাকিবকে ছাড়া একাদশ চিন্তাই করা যায় না। ওই ছয়মাসে দেশের বাইরে ফ্রাঞ্চাইজি লিগে ২০১৫ সালের জুলাই পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয় তাকে। মিস করেছিলেন ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ।
নিষিদ্ধ থাকার সময়ে ভালো আচরণের সম্মানে সাকিবের সাজার মেয়াদ কমে। ২০১৪ সালের অক্টোবরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন তিনি। ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফেরার টেস্টেই ৫৯ রানে নেন ছয় উইকেট। খুলনায় দ্বিতীয় টেস্টে আরও ধারালো সাকিবের বোলিং। ক্যারিয়ারের প্রথমবারের মতো এক টেস্টে তুলে নেন ১০ উইকেট।
এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেছিলেন, নিষিদ্ধ থাকার সময়ে আরও পরিণত হয়েছেন। ধীরস্থির ভাবে ভাবতে শিখেছেন। যার ফলও মিলেছে হাতেনাতে। মাঠের সাকিব আরও শানিত। মাঠের বাইরের কথায় বুদ্ধির ছাপ। এই বদলানো সাকিবে ঠিকই মুগ্ধ হয় বিসিবি। আস্থাও পায়। ২০১১ সালে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। দায়িত্ব আবার একে একে ফিরে আসছে তার কাঁধে। ফের ওয়ানডে দলে মাশরাফির ডেপুটি বানানো হয় তাকে। চলতি বছর টি-টুয়েন্টি থেকে মাশরাফি অবসর নিলে ধুম ধাড়াক্কা ক্রিকেটের অধিনায়কত্ব পান সাকিব।
চলতি বছর টেস্টে দারুণ সময় কাটাচ্ছিলেন সব্যসাচী সাকিব। ৭ টেস্টে ব্যাট হাতে ৬৬৫ রান আর বল হাতে ২৯ উইকেট নিয়ে ফেলেছেন। তার সামনে সুযোগ ছিলো এক পঞ্জিকাবর্ষে ১ হাজার রান ও ৫০ উইকেটের অনন্য রেকর্ড গড়ার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ১০ উইকেট আর ৮৯ রান। সাকিবময় টেস্টে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো হারায় অস্ট্রেলিয়াকে। তার আগেই ধারাবাহিক সাফল্য ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ভারত, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড সফর, ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। জ্বল জ্বল করে রোদ্দুর হয়ে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন। মোহময় এত সাফল্যের পরও নাকি ক্লান্ত সাকিব, চাইলেন বিশ্রাম। দক্ষিণ আফ্রিকায় দলের সেরা তারকাকে না পেয়ে মনমরা বাংলাদেশ। তবে মানসিক অবসাদ কাটিয়ে চাঙা হয়ে ফেরার কথা জানিয়েছেন সাকিব। ষোলো কোটির বাংলাদেশ, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা টাইগারদের সমর্থকরা এবং গোটা ক্রিকেট বিশ্বের সব সাকিবভক্তই চাইছে দীপ্ত, সতেজ সাকিবই ফিরে আসুন মাঠে।
যেদিন নির্বাচকদকের কাছ থেকে সবাই জানলো সাকিবের খবরটা বিস্ময় আর বিতর্ক, আলোচনা আর সমালোচনার ঝড় উঠে গেলো। সাকিব তাই পরের দিনই নিজের বনানীর বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করলেন। বিনয়ের সাথে জানালেন, একটু বিশ্রাম তো তার প্রাপ্যই!
কথা পুরো সত্য। কিন্তু বাংলাদেশের উন্মাতাল ক্রিকেট ভক্ত এবং সাকিবপ্রেমীদের কিভাবে বোঝাবেন? তারা যে আশা করে আছেন, তাদের ভালোবাসার মানুষটা কিছুটা বিশ্রাম নিতে নিতেই চাঙ্গা হয়ে উঠবেন। দেশ ও দলের ভালোবাসায় কাঁদতে শুরু করবে মন। আকুল হয়ে উঠবেন ফিরতে!
আহা! মন বদলে সাকিব কি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের অন্তত দ্বিতীয় টেস্টে ফিরবেন? ওই বিদেশের কঠিন মাটিতে বাংলাদেশ দলে যে তাকে খুব বেশি দরকার! সাকিব নিশ্চয়ই হাওয়ায় উড়ে বেড়ানো তার আগেভাগেই ফিরে আসার আকুতি শুনতে পাচ্ছেন।







খেলাধুলা পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com