আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
হেয়ার স্কুলের প্রাপ্তন ছাত্র হিসেবে কলকাতার বিভিন্ন সড়কে জিয়াউর রহমানের ছবি      পলাতক আসামিকে ভারতে রেখে এলেন আ.লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও পিপি!      নেতাদের জনসম্পৃক্ততা ও তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর তাগিদ খালেদা জিয়ার      সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এমপি গোলাম মোস্তফার অবস্থা আশঙ্কাজনক      ভারতের মানসী চিল্লার মাথায় বিশ্বসুন্দরীর মুকুট      যে কারণে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে চীন      নির্বাচন নয় আরাকান চাই      
নলছিটিতে পুলিশকে ‘তেলখরচ’ না দেয়ায়
অভিযুক্তের বদলে মাকে টেনে-হিচড়ে থানায় নেয়ার দৃশ্য দেখে পিতার মৃত্যু
আজমীর হোসেন তালুকদার
Published : Saturday, 9 September, 2017 at 1:30 AM
অভিযুক্তের বদলে মাকে টেনে-হিচড়ে থানায় নেয়ার দৃশ্য দেখে পিতার মৃত্যুঝালকাঠি:: স্ত্রীর দেয়া অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের এএসআইর দাবীকৃত মোটরসাইকেলের তেল খরচ এক হাজার টাকা না দেয়ায় স্বামী সুমন হাওলাদারের মাকে পুলিশ টেনেহিঁচড়ে থানায় নেয়ার দৃশ্য দেখে আতংকে তার পিতার হার্টএ্যটাকে মৃত্যু হয়েছে। এমন কি শানু হাওলাদারের মৃত্যুর খবর শুনে উক্ত এসআই তার অন্যায় কর্মকান্ডের দায় এড়াতে সুমনের মা সালেহা বেগমকে থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দক্ষিন সীমান্ত সংলগ্ন কাটাখালী গ্রামে এঘটনা ঘটার পর বিষয়ে ধামাচাপা দিতে থানা পুলিশ নানা তৎপরতা শুরু করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গছে।
স্থানীয় ও মৃতের পরিবার জানায়, উপজেলার কাটাখালী গ্রামের শানু হাওলাদারের (৭০) ছেলে সুমন হাওলাদারের নামে তার স্ত্রী সুখী বেগম নলছিটি থানায় একটি অভিযোগ দেয়। যৌতুক চেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় দায়েরকৃত অভিযোগটি নলছিটি থানার ওসি সুলতান মাহমুদ প্রাথমিক তদন্তের জন্য  এএসআই জসিম উদ্দিনকে দায়িত্ব দেয়।
বুধবার দুপুরে এএসআই জসিম উদ্দিন সংগীয় পুলিশ সদস্য নিয়ে শানু হাওলাদারের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে সুমন হাওলাদারকে খুঁজতে থাকেন। তাকে না পেয়ে পুলিশ যাওয়া আসার জন্য মোটরসাইকেলে তেল খরচ বাবদ সুমনের মা সালেহা বেগমের কাছে এক হাজার টাকা দাবী করে। টাকা দিতে না পারায় পুলিশ তাকে বলে, আপনার বিরুদ্ধেও পুত্রবধূ নির্যাতনের অভিযোগ আছে। আপনাকে আটক করে নিয়ে গেলেই ছেলেকেও পাওয়া যাবে।
এক পর্যায়ে বৃদ্ধ স্বামীর সামনেই পুলিশ সালেহা বেগমকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়। স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে যাচ্ছে দেখে স্বামী শানু হাওলাদার হার্ট অ্যাটাক করে অসুস্থ হয়ে পরলেই বাড়ীতে কেউ না থাকার কারনে অসুস্থাবস্থায় কিছুক্ষনের মধ্যেই সে মারা যায়। কিছু সময় পর স্বামী শানু হাওলাদার মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ তড়িগড়ি সালেহা বেগমকে নলছিটি থানা থেকে ছেড়ে দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে জানাজা শেষে শানু হাওলাদারের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এছাড়াও বৃহস্পতিবার নলছিটি থানার ওসি একেএম সুলতান মাহামুদ মোল্লারহাট ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেনকে সাথে নিয়ে মৃতের বাড়ী পরিদর্শন করেন। 
সালেহা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “নলছিটি থানা পুলিশের এএসআই জসিম উদ্দিন আমার ছেলে সুমন কে ধরতে আমাদের বাড়ীতে আসে। কিন্তু বাড়ীতে না থাকায় তাকে না পেয়ে এএসআই জসিম গালাগাল শুরু করে। এক পর্যায়ে সে আমার কাছে তেল খরচের জন্য এক হাজার টাকা দাবী করে। দরিদ্র পরিবার হিসাবে এতো টাকা না থাকায় তার দাবী পূরন করতে না পারলে সে আমাকে আটক করে। আর এ খবর শুনে আমার স্বামী হার্ট অ্যাটাক করে মারা যায়। আমার স্বামীর মৃত্যুর জন্য পুলিশের এএসআই জসিম উদ্দিন দায়ী, আমরা তার বিচার চাই।”
নলছিটি থানার ওসি একেএম সুলতান মাহামুদ বলেন, “সুমনের স্ত্রীর দায়ের করা একটি অভিযোগের তদন্তে গিয়েছিলেন এএসআই জসিম উদ্দিন সিকদার। তিনি সবাইকে ডেকে সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেছেন, সেখানে আটকের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরে জসিম ওই বাড়ি থেকে চলে আসার পরে গৃহকর্তা শানু হাওলাদার মারা যায়। এটা স্বাভাবিক মৃত্যু, এখানে কারো হাত নেই।”
এ ব্যাপারে নলছিটি থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জসিম উদ্দিন সিকদারের ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।







অপরাধ পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com