আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন ও ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী       জাতিসংঘের হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডী'র শরণার্থী ক্যাম্প পরির্দশন      যেভাবে মোবাইল ট্র্যাক করে পুলিশ বা হ্যাকাররা      উ. কোরিয়ার ‘সবচেয়ে কাছে’ দিয়ে মার্কিন বোমারু বিমান উড়ে গেল      অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে সেবা বাণিজ্যের অভিযোগ      রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো এখন বৌদ্ধ মগদের দখলে       নিয়োগ পরিক্ষায় প্রক্সি: ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক দুই জনের কারাদন্ড      
সেঞ্চুরি মিস করার আক্ষেপ রয়ে গেল সাকিবের, ব্যাটিংয়ে লক্ষ্য পূরণের দাবী
Published : Monday, 28 August, 2017 at 12:57 AM, Count : 87
সেঞ্চুরি মিস করার আক্ষেপ রয়ে গেল সাকিবের, ব্যাটিংয়ে লক্ষ্য পূরণের দাবীস্পোর্টস রিপোর্টার: বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ১৭ ওভার করেও উইকেট পেলেন না নাথান লিওন। স্পিন স্বর্গে তবুও আশা ছেড়ে দেননি সতীর্থদের কাছে পরিচিত ‘গ্রেটেস্ট অব অল টাইম’। ১৮তম ওভারে গিয়ে পেলেন সাকিব আল হাসানের উইকেট। স্পর্শ করলেন অস্ট্রেলিয়ার স্পিন কিংবদন্তি রিচি বেনোকে। এর পর ২৭তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজকে ফিরিয়ে তাকে টপকে গেলেন তিনি। তাইজুল ইসলামকে এলবিডাব্লিউ করে অষ্টম অস্ট্রেলিয়ান বোলার হিসেবে ২৫০ উইকেটের মাইলফলকে নাম লিখলেন লিওন। কিন্তু নিজের এ কীর্তি নিয়ে বড়াই করছেন না তিনি। বরং সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের প্রতিরোধ গড়া জুটির প্রশংসা করেছেন সফরকারী এ স্পিনার।
দলীয় ১০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। প্যাট কামিন্সের ওই ধাক্কা সামলে ওঠে তারা সাকিব ও তামিমের জুটিতে। নিজেদের ৫০তম টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখেন তারা একশ ছাড়ানো জুটিতে। চতুর্থ উইকেটে তারা যোগ করেন ১৫৫ রান। দুই ‘বন্ধু’র এ জুটি মুগ্ধ করেছে লিওনকেও, ‘তারা দুইজন খুব সাহসী ব্যাটিং করেছে। তারা ম্যাচকে এগিয়ে নিয়েছে, এমন কন্ডিশনে যেভাবে নেওয়া উচিত। এ উইকেটে যদি একসঙ্গে ভালো জুটি গড়তে পারে কেউ, তাহলে ভালো একটা স্কোর হয়।’
তামিমকে ৭১ রানে ফিরিয়ে ওই জুটি ভেঙেছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। পরে সাকিব ৮৪ রানে উইকেট দিয়েছেন লিওনকে। দুজনই প্রশংসা পেলেন এ অফ স্পিনারের কাছ থেকে, ‘আমি এখানে বসে তাদের কৃতিত্ব দিতে চাই। তারা দুজন ভালো খেলোয়াড়। তারা অসাধারণ কিছু শট খেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তাদের প্রাণখোলা অভিবাদন জানাই। এখন আমাদের প্রথম ইনিংস সামলে নিতে হবে, দেখা যাক কী হয়।’
শত প্রসংসার মাঝেও রয়েছে সাকিবের হতাশা। তিনি নিজেই স্বীকার করে নিলেন সংবাদ সন্মেলনে। সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখানো ইনিংসের সমাপ্তি একরাশ হতাশা নিয়ে। দলের মহাবিপদে মাঠে নেমে ব্যাট হাতে এগিয়ে নিচ্ছিলেন দলকে, নিজেও এগোচ্ছিলেন ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু মুহূর্তের ভুলে সর্বনাশ হলো সাকিব আল হাসানের, নাথান লিওনের অফস্টাম্পের বাইরের বল তুলে দিলেন স্লিপ ফিল্ডারের হাতে। সেঞ্চুরির ১৬ রান দূরে থেকে ফিরে ভীষণ হতাশ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দুঃখটা লুকিয়ে রাখতে পারেননি সাকিব, ‘সেঞ্চুরি মিস করলে আক্ষেপ তো হবেই। সেঞ্চুরি করতে পারলে ভালো হতো, অনেক খুশি হতাম।’
তবে ‘ম্যাজিক ফিগার’ ছুঁতে না পারলেও তামিম ইকবালের সঙ্গে সাকিবের ১৫৫ রানের জুটিতেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। ১০ রানে তিন উইকেট হারানোর পর ঘুরে দাঁড়ানো কতটা কঠিন ছিল প্রশ্নে সাকিবের জবাব, ‘কাজটা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল।  আমরা দুজনেই ব্যাটিংটা ভালোভাবে প্রয়োগ করতে পেরেছি। আমাদের জুটিটা দলের জন্য জরুরি ছিল। কন্ডিশনের কথা বিবেচনা করলেও খুব ভালো ছিল ‍জুটিটা।’
সাকিব ও তামিমের এটা ৫০তম টেস্ট। এ নিয়ে মাত্র পঞ্চমবার টেস্ট ক্রিকেটে জুটি গড়ার সুযোগ পেয়েছেন দুই বন্ধু। এর মধ্যে দুবারই গড়েছেন ‘সেঞ্চুরি’ জুটি! টেস্টে দুজনের দ্বিতীয় সেরা জুটি খুলনায়, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৩২। ব্যাটিংয়ের সময় তামিমের সঙ্গে বোঝাপড়া সম্পর্কে সাকিবের মন্তব্য, ‘আমাদের মধ্যে খুব বেশি কথা হয় না। আমরা শুধু যতক্ষণ সম্ভব ব্যাটিং করে যাই। অনেক দিন ধরে একসঙ্গে খেলছি বলে আমাদের মধ্যে ভালোই বোঝাপড়া। আমাদের দুজনেরই এটা ৫০ নম্বর টেস্ট। তাই বোঝাপড়া নিয়ে কোনও সমস্যা হয় না।’
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সৌম্য-ইমরুল-সাব্বির সাজঘরে ফিরে যাওয়ার সময় স্কোরবোর্ডে ছিল মাত্র ১০ রান। টাইগাররা তখন মহাবিপদে। পাঁচ নম্বরে নামা সাকিব আল হাসানের সঙ্গে শুরুতেই একটা পরিকল্পনা করে নিয়েছেন তামিম ইকবাল। মাইলফলকের ম্যাচে দুই বন্ধু ঠিক করেন, অন্তত ২৫০ পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে দলকে। লক্ষ্যের চেয়েও ১০ রান বেশি করে প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ায় সাকিব অনেকখানি স্বস্তিতে।
সাকিব বলেছেন, ‘বল শুরু থেকেই ঘুরছিল। তাই আমরা আড়াই শ’র মতো রান করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম, যেটা আমরা করতেও পেরেছি। নাসির, মিরাজ ও শফিউলের ইনিংস খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওদের দৃঢ়তায় আমরা লক্ষ্যপূরণ করতে পেরেছি।’

প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশের দুটি রিভিউই নষ্ট হয়েছে। প্রথমটি নষ্ট হওয়ার জন্য সাব্বির রহমান দায়ী। মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই তিনি আউট! প্যাট কামিন্সের ফুলার লেন্থ ডেলিভারি ঠিকভাবে খেলতে পারেননি সাব্বির। বল চলে যায় উইকেটরক্ষক ম্যাথু ওয়েডের গ্লাভসে। আম্পায়ার আউট দিলে রিভিউ নিয়েছিলেন সাব্বির। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে ধরা পড়েছে ব্যাট-বলের স্পর্শের দৃশ্য।

পরের রিভিউটি নষ্ট করেছেন মুশফিকুর রহিম। অ্যাস্টন অ্যাগারের বাঁহাতি স্পিনে বিভ্রান্ত বাংলাদেশ অধিনায়কের প্যাডে আঘাত করেছে বল। অস্ট্রেলীয় ফিল্ডারদের আবেদনে আম্পায়ার আঙুল তুললে রিভিউয়ের দ্বারস্থ হন মুশফিক। কিন্তু লাভ হয়নি, বহাল থেকেছে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত। অথচ এরপর রিভিউয়ের অভাবে মেহেদী হাসান মিরাজ ফিরেছেন আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের বলি হয়ে।

এ বিষয়ে সাকিবের বিশ্লেষণ, ‘এটা (রিভিউ সিস্টেম) এখন ক্রিকেটে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। মিরাজের আউটটা ছিল না। তাই সে সময় রিভিউ থাকলে সেটা নেয়া যেত। মিরাজ ও নাসিরের জুটিটা ভালো হচ্ছিল, ওরা ৪২ রান করে ফেলেছিল। ওই সময় রিভিউ থাকলে আরও বড় হতে পারত জুটিটা।’
প্রথম দিনেই পতন ১৩ উইকেটের। ম্যাচটা পঞ্চম দিনে যাবে কিনা, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। সাকিবেরও তেমনই ধারণা, ‘মনে হয় না ম্যাচ পাঁচ দিনে যেতে পারবে। হয়তো কাল উইকেট একটু ভালো আচরণ করতে পারে। দিনের শুরুতে হয়তো ভবিষ্যদ্বাণী করা যেতে পারে। কিন্তু ম্যাচটা কত দিনে যাবে, তা বলা খুব মুশকিল।’ 
৫৫ নম্বর টেস্ট খেলতে নামা একজন ব্যাটসম্যানের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ২০টি সেঞ্চুরি। হাফসেঞ্চুরির সংখ্যাও ২০। টেস্টে ৫ হাজারের ওপর রান করে ফেলা স্টিভেন স্মিথ দারুণ স্বচ্ছন্দ স্পিন বোলিংয়ে। মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৩ রানে অপরাজিত অধিনায়কের দিকে তাকিয়ে বিপদে পড়া অস্ট্রেলিয়া। সাকিব আল হাসানও চিন্তিত স্মিথকে নিয়ে। 
‘স্মিথকে কি হুমকি মনে করছেন?’ প্রশ্নে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের স্পষ্ট উত্তর, ‘অবশ্যই স্মিথ আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। সে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। রেকর্ডই তার হয়ে কথা বলে। এ বছরের শুরুতে ভারত সফরে সে তিনটা সেঞ্চুরি করেছিল। স্মিথের মতো ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে বোলিং করা ভীষণ চ্যালেঞ্জিং।’
শুরুতে বিপদে পড়লেও প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে। যদিও সাকিব এখনই উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে রাজি নন, ‘এখন আমরাই চালকের আসনে। তবে কালকে নতুন একটা দিন। আমাদের আরও ৭টা উইকেট নিতে হবে। ওদের কয়েকজন ভালো  ব্যাটসম্যান আছে। তাই আমাদের ফোকাস ঠিক রাখতে হবে। টেস্ট ম্যাচে প্রতিটি দিনেই নতুন পরিস্থিতির জন্ম হয়। সেগুলো ঠিকভাবে মোকাবেলা করা সবচেয়ে জরুরি।’
দ্বিতীয় দিনের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে সাকিবের বক্তব্য, ‘আমাদের পরিকল্পনা থাকবে সঠিক জায়গায় বোলিং করার। তবে কখনও কখনও উইকেট পেতে ভাগ্যের ছোঁয়াও লাগে।’ এরপর উপমহাদেশের উইকেটে অস্ট্রেলীয়দের দুর্বলতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘ওরা একটু হলেও চাপে থাকবে। উপমহাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ওদের পারফরম্যান্স ভালো নয়। আরেকটা ব্যাপার হলো, শ্রীলঙ্কা বা ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের উইকেট একটু ভিন্ন। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ার এই দলের কেউ আগে কখনও বাংলাদেশে টেস্ট খেলেনি। তাই যতই অনুশীলন করুক বা প্রস্তুতি নিক, সফল হওয়া সহজ নয় ওদের জন্য।’
ফল যা-ই হোক, প্রথম দিন অল্প সময়ের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার তিন উইকেট তুলে নিতে পেরে সাকিব দারুণ খুশি, ‘আমরা জানতাম যে ৯ ওভার পাবো এবং তার মধ্যেই উইকেট ফেলতে হবে। আমরা দ্রুত ৩ উইকেট নিয়ে ওদের চাপে ফেলতে পেরেছি।’







খেলাধুলা পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com