আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
অং সান সু চি ও তার সরকার বালিতে মাথা গুঁজে রেখেছে: অ্যামনেস্টি      রোহিঙ্গা ইস্যুতে ট্রাম্প-হাসিনা আলোচনা: প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিবের পরস্পর বিরোধী দাবী!      হঠাৎ সুর পাল্টাল সু চি: সু চির বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ যেসব বিষয়...      সুপেয় পানির জন্য রোহিঙ্গাদের হাহাকার      বাসর রাতে বরকে শাসরোধ করে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা!      ঝালকাঠিতে ভেঙ্গে পড়েছে শেরেবাংলা স: প্রা: বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা      রোহিঙ্গাদের দূদর্শার নাম আরসা বা আল ইয়াকিন      
বাংলাদেশে পুলিশের দরকার কি?
মো:নাসির (নিউ জার্সি, আমেরিকা থেকে)
Published : Tuesday, 22 August, 2017 at 3:42 PM, Count : 270
বাংলাদেশে পুলিশের দরকার কি?বাংলাদেশের রাস্তার বিচারক হলো পুলিশ। তাদের কাজ হলো জনগণকে নিরাপত্তা দেয়া। রাস্তাঘাটে কোন সমস্যা হলে তা দেখাও তাদেরই কাজ। অভিযুক্তদের সনাক্তকরণ, গ্রেফতার করা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা তাদেরই কাজ। দেশের আইনের প্রতি আমাদের আজকাল তেমন কোন দৃষ্টি নেই। আমরা ভুলতে বসেছি আইনের শাসন। কখনো কখনো আমরা গুরুতর অপরাধীদের অভিশাপ দিয়ে থাকি। আমরা অনেক সময় অনেক কিছু লক্ষ্য করি না। 
সাধারণ দৃষ্টিতে আমরা বুঝে থাকি পুলিশ ঠিকমতো তাদের সেবা দিচ্ছে না। সাধারণ মানুষ মনে করে পুলিশ সদস্যরা অপদার্থ, উদাসীন এবং মারাত্মকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত। কেউ কেউ মনে করে থাকেন পুলিশের নৈতিক প্রশিক্ষণের অভাব।
সাধারণ মানুষের উচিত তাদের সমস্যা নিয়ে পুলিশের সাথে আলোচনা করা অথবা মুখ বুজে সহ্য করা। ফলে পোশাকধারীরা নিজেদের দপ্তরের জন্য কিংবা নিজের অভিজ্ঞতা বাড়ানোর জন্য হলেও ভালো কিছু করার চেষ্টা করবে। বিশেষ কারণ হলো আমরা সাধারণ মানুষ আসলে কিছুই করতে পারি না, শুধু শুধু সমালোচনা করা ছাড়া। সম্প্রতি ক্ষমতাসীন সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিশ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ হরতালে নাশকতা দমনে পুলিশদের ব্যবহার করছে। তারা কিছু কায়দা-কানুনও ব্যবহার করছে এ সুযোগে। ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে পুলিশের প্রতিরোধ কমিটিকে। আওয়ামী লীগ আশা করছে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর এবং অন্যান্য যে কোন ধরণের নাশকতামূলক কর্মকান্ড প্রতিরোধে মুক্তভাবে তাদের দলের কিছু লোক তাদের সাথে কাজ করবে। সে কারণে তারা পুলিশের এ কমিটিকে তাদের একটি অংশ হিসেবে মনে করে। তারা আশা করছে নাশকতার ঘটনায় জড়িত যে কাউকে পুলিশে হস্তান্তরের পূর্বে তাদের মাধ্যমে উত্তমধ্যম দিতে চায় সরকার।
কিন্তু হাতে আইন তুলে নেয়া জনগণের জন্য অনেক বেশি বিপজ্জনক। এর ফলে দেশে অরাজকতা দেখা দিতে আর কোন বাধা থাকে না। অন্যদিকে গণতন্ত্র বলতে সেখানে কিছু থাকে না, যদি তাই হবে তবে আইনের কি দরকার আছে? আর যদি কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের হাতে এ আইন তুলে দেয়া হয় তবে গণতন্ত্র দূষিত হতে আরো কম সময় লাগে। দেশে কোন সুযোগ সুবিধার কমতি নেই যে কারণে সহজেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। চলমান হরতাল অবরোধে অনেক পেশাদার পিকেটার কিংবা দুর্বৃত্তরা সময়ের সুযোগ নিয়ে মাস্তি করার জন্যও অনেক দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। এ দেশে বর্তমানে যা ঘটছে পুলিশ বাহিনীর সাথে এরকম অনেক অপরিচিত মুখ যারা পুলিশের সদস্য নয় এবং পুলিশি কার্যক্রমের সাথে জড়িত হওয়ার অধিকারও রাখে না তাদের সংখ্যা বাড়ছে। এ পরিস্থিতি দিন দিন সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে, ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে পুলিশের শৃঙ্খলা।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি সংবাদ হলো নরংসিদীতে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে ৭ জনের মৃত্যু। মানুষ এত নির্দয় কখনো হয়নি। ৭ জন ডাকাত মেরে ফেলার ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে হলেও তা বিশ্বাসযোগ্য ছিল কিন্তু গণপিটুনিতে ৭ জনের মৃত্যু সত্যিই অবাক করার মত ঘটনা। সাধারণ মানুষ সহজেই আইন তুলে নিতে পারে না। তাদের উচিত ছিল পুলিশে সোপর্দ করা, তা না করেছে তারা খুন। খুন সব সময়ই খুন সে যে-ই করে থাকুক তা অন্যায়। আমরা এত জঘন্যভাবে আইনকে উড়িয়ে দিতে পারি না, কিন্তু টেলিভিশনের পর্দায় খবরের কাগজে যা দেখছি তাতে অবিশ্বাসও করতে পারছি না যে, আইনের প্রতি আমাদের নূন্যতম শ্রদ্ধাবোধও নেই। অন্যদিকে সরকার বড় গলায় বলছেন দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কোনটি তবে সত্য।
পুলিশের কাজ হলো অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করা। দেশে আইন আছে আদালতের কাজ হলো আইন অনুযায়ী অপরাধীর শাস্তির বিধান করা। চোর, ডাকাতরা সমাজের অনেক ক্ষতি করে থাকে, মানুষ তার প্রতি ক্ষিপ্ত থাকতেই পারে আর সে কারণে অপরাধী হিসেবে তাদের ধরা মাত্র মেরে ফেলার অধিকার সাধারণ মানুষের নেই। এটা কোন আইনের শাসন নয়। 







জাতীয় পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com