আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
হেয়ার স্কুলের প্রাপ্তন ছাত্র হিসেবে কলকাতার বিভিন্ন সড়কে জিয়াউর রহমানের ছবি      পলাতক আসামিকে ভারতে রেখে এলেন আ.লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও পিপি!      নেতাদের জনসম্পৃক্ততা ও তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর তাগিদ খালেদা জিয়ার      সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এমপি গোলাম মোস্তফার অবস্থা আশঙ্কাজনক      ভারতের মানসী চিল্লার মাথায় বিশ্বসুন্দরীর মুকুট      যে কারণে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে চীন      নির্বাচন নয় আরাকান চাই      
৭৫ শতাংশ পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনে ঘুষ নিয়ে টিআইবি'র তথ্য ও আমার নিজের একটি গল্প
ইউসুফ আহমেদ তুহিন
Published : Monday, 21 August, 2017 at 1:56 PM
৭৫ শতাংশ পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনে ঘুষ নিয়ে টিআইবি'র তথ্য ও আমার নিজের একটি গল্পপাসপোর্ট তৈরিতে ভেরিফিকেশনের সময় শতকরা ৭৫ দশমিক ৩ জন গ্রাহকের কাছ থেকে এসবি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) পুলিশ ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভুত অর্থ নেয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায় এ তথ্য ওঠে এসেছে। সোমবার (২১ আগষ্ট ২০১৭) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
গবেষণার ফলাফলে টিআইবি জানায়, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভুত অর্থ হিসেবে গড়ে একজন সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ৭৯৭ টাকা আদায় করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদনে পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা সাধারণ আবেদনকারীদের হয়রানি ও দুর্নীতির শিকার হওয়ার একটি অন্যতম মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জরিপে দেখা গেছে, নতুন পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে ৭৬ দশমিক ২ শতাংশ সেবাগ্রহীতা পুলিশি তদন্তে অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এছাড়া ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ গ্রহীতাকে ঘুষ বা নিয়ম-বর্হিভূত অর্থ দিতে হয়েছে।
বলা হয়েছে, পুলিশি প্রতিবেদন প্রণয়নে এসবি পুলিশ কর্তৃক আবেদনকারীদের হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। যেমন, আবেদনপত্রে অযথা ত্রুটি খুঁজে বের করার চেষ্টা, আবেদনকারীদের জঙ্গি কার্যক্রম বা অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভয় দেখানো, বাড়িতে না এসে চায়ের দোকান বা থানায় ডেকে পাঠানো, নিয়ম-বর্হিভূত অর্থ বা ঘুষ দাবি করা এবং ক্ষেত্রবিশেষে তা বিকাশের মাধ্যমে পাঠাতে বলা ইত্যাদি।
এই প্রতিবেদন দেখে আমার মনে পড়ল ২০১০ সালের একটি বেদনার গল্প। আমার বউ-মেয়ে'র পাসপোর্ট ফেরিফিকেশানে এসেছিল সিটি এসবি'র এক এসআই। সুদর্শন সেই এসআই এসে আমাকে না পেয়ে আমার বউয়ের কাছে আর টাকা চাইলেন না। বললেন আমার সাথে কথা বলতে চায়। সততার রোগে ভোগা আমি তাকে ফোন করে বলি আপনি ভাই কি খাবেন বলেন। কিন্তু, আমি ঘুষ নেওয়া এবং দেওয়ার ঘোর বিরোধী। আপনার যা যা কাগজ পত্র প্রয়োজন আমি দিচ্ছি। সকল প্রয়োজনীয় কাগজ তিনি তখন সাথে সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি যাওয়ার সময় আরো কিছু কাগজ পত্রের লিষ্ট ধরিয়ে দেন। আমার অফিস থেকে আসিফ নামে একজন সকল প্রয়োজনীয় কাগজ নিয়ে তার সাথে দেখা করে। তিনি বলেন, আর কিছু দেয়নি? আর কিছু বলতে তিনি নির্দিষ্ট একটা খাম আশা করেছিলেন। আসিফ তাকে না বলতেই তিনি আসিফকে খুব খারাপ গলায় বললেন, তাহলে তুমি আর আমার চেহারা দেখছ কেন? যাও আমার সামনে থেকে।
আসিফ এসে ঘটনা বলতেই আমার বউ শুরু করল আমার উপর অত্যাচার। তোমার কারণে আমার পাসপোর্ট হবে না। কি হতো ১-২ হাজার টাকা দিয়ে দিলে।
যাইহোক, এমন করে সময় গড়িয়ে যাচ্ছিল। আমি সেই পুলিশের এসআইকে নিজে ফোন দিয়ে অনেক অনুনয় করে পাসপোর্ট ভেরিফিকেশান করে দেওয়ার অনুরোধ করলাম। কিন্তু, কাজ হলো না। পরবর্তীতে আমার বন্ধু বিভিন্ন সাংবাদিক দিয়েও অনুরোধ করালাম। দৈনিক সমকালের হাসান জাকির, সেই সময় দৈনিক আমাদের সময়ে থাকা হিটলার হালিমসহ অনেকে তাকে অনুরোধ করল। কিন্তু, তিনি পাসপোর্ট ভেরিফিকেশান আর করেন না। এভাবে ৬ মাস সময় চলে গেল। যদি আর মাত্র ১ সাপ্তাহের মাঝে ভেরিফিকেশান রিপোর্ট না যায়, তবে পাসপোর্টের আবেদনই বাতিল হয়ে যাবে। বাধ্য হয়ে দৈনিক নতুন সময়ের সম্পাদক নাজমুল হক শ্যামলকে নিয়ে এসবি অফিসে গেলাম। তাও কোন কাজ হলো না। পরবর্তীতে এসবি অফিসের একজন ইন্সপেক্টরের রেফারেন্সে নাজমুল হক শ্যামল সেই এসআই এর সাথে দেখা করল। তিনি তখন আর কম টাকায় এই পাসপোর্ট ২টি ভেরিফিকেশান রিপোর্ট দিবেন না। তাকে নগদ ৩ হাজার টাকা দিয়ে আসল। তিনি এবার কথা দিলেন, ভেরিফিকেশান রিপোর্ট পাঠাবেন।
কিন্তু, অবাক করা ব্যাপার, পরের দিন সকাল বেলা এসবি থেকে অন্য একজন এসআই আসল ফেরিফিকেশানে। তিনি এসে দাবী করল, তাকে যদি ২ হাজার টাকা দেই, তাহলে আজই রিপোর্টটি পাঠিয়ে দিবেন। তখন আমার শিক্ষা হয়ে গেছে। ঘুষ না দেওয়ার বিড়ম্বনা আমাকে হাড়ে হাড়ে শিখিয়ে দিয়েছে সময় মতো ঘুষ দেওয়াটা কতটা জরুরী। তাকে সাথে সাথে আরো ২ হাজার টাকা দিয়ে দিলাম।
শেষের জনকে আগের এসআই-ই পাঠিয়েছিলেন। যাক, শেষের জন কথা রেখেছিলেন। প্রায় ৬ মাস পরে আমার বউ মেয়ে পাসপোর্ট পেল। 
আমি গল্পটা সংক্ষেপেই বললাম। কতভাবে যে আমি অত্যাচারিত হয়েছি তা বলে শেষ করা যাবে না। পরবর্তীতে আমি পাসপোর্ট ভেরিফিকেশানে আসলেই টাকা বের করে দেওয়ার পরামর্শ সবাইকে দিয়েছি।
শুধু আমার ক্ষেত্রেই নয়, পাসপোর্ট ভেরিফিকেশানে এমন বিড়ম্বনায় পড়েছে কতো লাখ লোক, তা হিসেব করা অসম্ভব। সেইদিন ফেইসবুকে দেখলাম, একজন নৌ কর্মকর্তার স্ত্রী ষ্ট্যাটাস দিয়েছেন, টাকা না দেওয়ায় তার সরকারী বাড়ীতে এসবি কর্মকর্তা ভিজিট করে সিসিটিভি ফুটেজ থাকার পরও রিপোর্ট দিয়েছেন ঠিকানা পাওয়া যায়নি! অথচ, কতো শত শীর্ষ সন্ত্রাসীর পাসপোর্ট ভেরিফিকেশান হচ্ছে শুধু মাত্র টাকার বিনিময়ে। 
আমার ছোট একটি প্রশ্ন, সরকার পাসপোর্ট ভেরিফিকেশানের নামে এসবি'র এই হেনস্থা না করে, আরো ১ হাজার টাকা পাসপোর্ট ফি বাড়িয়ে নিয়ে এসবি'র কাছে পাঠিয়ে দিলেই পারে। এই টাকাটাই হবে পাসপোর্ট মালিকের ভেরিফিকেশান! এতে অনেকে অবৈধ টাকা দেওয়ার বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পায়!

ইউসুফ আহমেদ তুহিন: সম্পাদক ও প্রকাশক, সাপ্তাহিক নতুন বার্তা।







অপরাধ পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com