আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে শেখ হাসিনার ছয় প্রস্তাব: ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐক্যের ডাক      মুন্সিগঞ্জে টেক্সটাইল মিলে আগুনে নিহত ৬      উত্তর কোরিয়াকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকী দিলেন ট্রাম্প      ওয়েস্ট ইন্ডিজের হারে ২০১৯ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করল শ্রীলঙ্কা      ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে মেক্সিকোতে মৃতের সংখ্যা দুইশো ছাড়িয়েছে      পাটের বস্তা ব্যবহার নিয়ে মন্ত্রীদের ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন অসাধু চাল ব্যবসায়ীরা: মীর্জা আজম      বন্যায় যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার চেয়ে বেশি চাল আমদানি করা হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী      
১৩ বছর ধরে চলছে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারকাজ
Published : Monday, 21 August, 2017 at 1:36 AM, Count : 143
১৩ বছর ধরে চলছে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারকাজবিডিহটনিউজ,ঢাকা: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বারবার হত্যার চেষ্টা করেছিল দুর্বৃত্তরা। এই হত্যাচেষ্টা শুরু হয় ১৯৮৯ সাল থেকে। ওই বছর প্রথম দফায় রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে, দ্বিতীয় দফায় ২০০০ সালে কোটালিপাড়ায়, তৃতীয় দফায় ২০০২ সালে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় এবং চতুর্থ দফায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয় দলের নেতাকর্মীদের ওপর। এই গ্রেনেড হামলায় মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হয়েছিলেন প্রায় ৪০০ মানুষ।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর বিভীষিকাময় রক্তাক্ত পরিস্থিতি সবশেষ রবিবার (২০ আগস্ট) কোটালিপাড়ায় বোমা পুতে রাখার মামলার রায় দেওয়া হলেও অন্যগুলো এখনও বিচারাধীন। আজ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলারও ১৩ বছর পূর্ণ হলো, কিন্তু আজও ওই মামলার বিচারকাজ শেষ হয়নি। বর্তমানে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে পুরনো একটি সরকারি ভবনে ঢাকার দ্রুত বিচার আদালত-১-এ বিচার কার্যক্রমটি চলছে। বর্তমানে এই মামলার আসামি পক্ষের সাফাই সাক্ষ্য চলছে। তবে চলতি বছরের মধ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার কার্যক্রম শেষ করা যাবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান।
আদালত সূত্র জানায়, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর ২০০৪ সালের ২২ আগস্ট দণ্ডবিধির ১২০/বি, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ২০১, ১১৮, ১১৯, ২১২, ৩৩০, ২১৮, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীফ ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এর নম্বর ৯৭।
২০০৮ সালের ৯ জুন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে সিএমএম আদালতে দুটি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন সিআইডির সিনিয়র এএসপি ফজলুল কবির। ওই বছরই মামলা দুটির কার্যক্রম দ্রুত বিচার আদালত-১-এ স্থানাস্তর করা হয়। এ আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের ২৯/১১ (হত্যা) ও ৩০/১১ (বিস্ফোরক) মামলা দুটির বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহেদ নূর উদ্দিন।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী (পিপি) সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় এখন আসামি পক্ষের সাফাই সাক্ষ্য চলছে। ২৭ জন সাফাই সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। সবার সাফাই সাক্ষ্য শেষ হলে শুরু হবে যুক্তিতর্ক। সবশেষে এ মামলার রায় দেবেন আদালত। এ বছরের মধ্যেই মামলার রায় দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি। 
আদালত সূত্র জানায়, এ মামলার আসামি হচ্ছেন ৫২ জন। এর মধ্যে পলাতক ১৯ জন আর কারাগারে বন্দি ২২ জন। জামিনে আছে আট জন। পলাতক আসামিরা হচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন আহমদ, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ, পুলিশের সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান।
এছাড়া জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা মাওলানা তাজ উদ্দিন, মাওলানা মহিবুল মুত্তাকিন, আনিসুল মুরসালিন ওরফে মুরসালিন, মোহাম্মদ খলিল, জাহাঙ্গির আলম বদর, ইকবাল, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ লোকমান হাওলাদার, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জোবায়ের, মুফতি শফিকুর রহমান, রাতুল আহমেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবু পলাতক রয়েছেন। পলাতক দুই আসামি হুজি সদস্য আনিসুল মোরসালিন ও মহিবুল মুত্তাকিন ভারতের তিহার কারাগারে আটক রয়েছেন বলে গোয়েন্দারা জানিয়েছেন।
কারাগারে বন্দি আসামিরা হচ্ছেন– এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফজ্জমান বাবর, বিএনপি নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুল সালাম পিন্টু, শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল, শেখ আবদুস সালাম, আবদুল মাজেদ ভাট, ইউছুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা ওরফে জিএম, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর ওরফে আবু হুমাইয়া ওরফে পীর সাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহিব উল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সায়ীদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গির আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ তামীম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, আবিদ হাসান সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামীম ওরফে রাশেদ, মো. উজ্জল ওরফে রতন ও হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া।
দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর বর্তমানে জামিনে আছেন খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা, সাবেক আইজিপি শহুদুল হক, সাবেক আইজিপি খোদাবক্স, সিআইডির সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান, সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ ও ঢাকা মহানগরীর ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম আরিফ।
আদালত সূত্র জানায়, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার আসামিদের মধ্যে যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল বিপুলের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। তাই এ মামলার আসামির তালিকা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়। ৪৯১ জন সাক্ষীর মধ্যে দুই তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
যেভাবে মামলার গতি পরিবর্তন হয়
গ্রেনেড হামলা মামলায় প্রথমে তদন্ত করে মতিঝিল থানা পুলিশ। পরে মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশও তদন্ত করে। এরপর এই দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)। সিআইডির সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান, সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ মামলাটির তদন্ত করেন। তদন্ত শুরুর কয়েকদিন পরই জজ মিয়া নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে গ্রেনেড হামলার রহস্য উদ্ঘাটন করার দাবি করে পুলিশের সিআইডি। শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদসহ আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের ওই সমাবেশে গ্রেনেড চালিয়েছিল বলে জজ মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
১/১১’র পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর নতুন করে এ মামলার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর ফের পাল্টে যায় এ মামলার তদন্তের গতি। মামলার অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডির এসপি আবদুল কাহার আকন্দকে। ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর ২০০৯ সালের ২৫ জুন মামলাটির অধিকতর তদন্তের আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। ওই বছরের ৩ আগস্ট আদালত তা মঞ্জুর করেন।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও আবদুস সালাম পিন্টুসহ আরও ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১১ সালের ২ জুলাই আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন আবদুল কাহার আকন্দ। অধিকতর তদন্তে গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) পাশাপাশি হাওয়া ভবনের সংশ্লিষ্টতাও খুঁজে পান তিনি। হাওয়া ভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালীরা হুজিকে ব্যবহার করে এ হামলা চালায় বলে মনে করেন সিআইডির এই এসপি। তখনকার জোট সরকারের প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রী ও কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান এবং সিআইডির কয়েকজন কর্মকর্তা মামলাটিকে ভিন্নখাতে নিতে জজ মিয়া নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
এসব অভিযোগে মতিঝিল থানায় সিআইডির তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন আবদুল কাহার আকন্দ। মুফতি হান্নানসহ কয়েকজন জঙ্গি নেতা তাদের জবানবন্দিতে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও লুৎফুজ্জমান বাবরসহ অন্যান্য আসামিদের নাম উল্লেখ করেন বলেও সম্পূরক অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।
সম্পূরক চার্জশিট দেওয়ার দু'দিন পর ২০১১ সালের ৪ জুলাই পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, খোদাবক্স চৌধুরী ও শহুদুল হক এবং ৬ জুলাই সিআইডির সাবেক এএসপি মোহাম্মদ রুহুল আমিন, সিনিয়র এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান ও এএসপি আবদুর রশিদ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। কয়েক মাস জেল খাটার পর তারা জামিনে মুক্তি পান।
সেদিন যা ঘটেছিল
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ছিল শনিবার। ওইদিন বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে একটি ট্রাককে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের সমাবেশ হচ্ছিল। এখানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকাল সোয়া ৫টার পর শেখ হাসিনা বক্তব্য শেষ করে মঞ্চ থেকে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক এ সময়েই চালানো হয় বর্বরোচিত এ গ্রেনেড হামলা। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে থাকে একের পর এক আর্জেস গ্রেনেড। মুহূর্তেই এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি হয় সেখানে। মানুষের ছিন্ন-ভিন্ন দেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে রাজপথে।







আইন আদালত পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com