আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে শেখ হাসিনার ছয় প্রস্তাব: ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐক্যের ডাক      মুন্সিগঞ্জে টেক্সটাইল মিলে আগুনে নিহত ৬      উত্তর কোরিয়াকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকী দিলেন ট্রাম্প      ওয়েস্ট ইন্ডিজের হারে ২০১৯ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করল শ্রীলঙ্কা      ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে মেক্সিকোতে মৃতের সংখ্যা দুইশো ছাড়িয়েছে      পাটের বস্তা ব্যবহার নিয়ে মন্ত্রীদের ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন অসাধু চাল ব্যবসায়ীরা: মীর্জা আজম      বন্যায় যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার চেয়ে বেশি চাল আমদানি করা হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী      
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসারের বাজেটের হিসাব মেলাতে টানাপড়েনে মধ্যবিত্ত
Published : Friday, 11 August, 2017 at 12:44 PM, Count : 157
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসারের বাজেটের হিসাব মেলাতে টানাপড়েনে মধ্যবিত্তবিডিহটনিউজ,ঢাকা: বেসরকারি চাকরিজীবী ইমদাদুল হকের সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার। ছুটির দিনটাতেই সাধারণত বাজার করেন। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বেশ ভালো বেতনেই চাকরি করেন তিনি। তবে জানালেন তারপরও শান্তি নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস তার মত মধ্যবিত্তদের। বাসা ভাড়া এবং বাচ্চাদের স্কুলের বেতন, প্রাইভেট টিউটরের সম্মানী সহ পড়াশোনার খরচেই চলে যায় বেশির ভাগ টাকা। সেসব খরচ যোগাতে গিয়ে টান পড়ছে তার কাঁচাবাজারের বাজেটে।
জানালেন, কাঁচাবাজারেও যেন সব কিছুর দামই লাগামহীন পাগলা ঘোড়া। মাছের দাম গত সপ্তাহের থেকে কেজি প্রতি মাছ ভেদে ৫০ থেকে একশ টাকা বেশি। চালের দামের ঊর্ধ্বগতির পাগলা ঘোড়া একটা পর্যায়ে থমকে থাকায়, চাল নিয়ে আতঙ্ক কিছুটা কম থাকলেও, জানালেন মিনিকেট এখনও ৫৫ টাকা কেজি কিনতে হচ্ছে। কোনো সবজির দামই ৬০ টাকার নিচে কেজি নয়। মরিচের দামেও ঊর্ধ্বগতি। কেজিতে মরিচ কিনতে লাগছে ১২০ টাকা। আর খুচরা একশগ্রাম কিংবা দুইশ গ্রাম কিনতে কেজিতে পড়ছে ১৬০ টাকা পর্যন্ত।
ইমদাদুল হক বলেন, বাজার অনেক চড়া। বিশেষ করে সবজির দাম গত সপ্তাহের থেকে কেজিপ্রতি ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
বাজারের সব জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য তিনি দায়ী করলেন সিন্ডিকেটকে। তার মতে সিন্ডিকেটই এসব জিনিসের দাম বাড়িয়ে রাখছে।
বাজারে কোনো জিনিসেরই অভাব নেই। তারপরও দাম কেন কমছে না। প্রশ্ন ইমদাদুল হকের।  
শহীদুর রহমান প্রতি সপ্তাহেই আসেন এই বাজারে। জানালেন সবজির দাম অনেক বেশি। রসুনের দাম কিছুটা কমলেও পেঁয়াজের দামের ঊর্ধ্বগতিতে তিনি আতঙ্কিত। বললেন, বাজারে জিনিসের দাম আর মধ্যবিত্তের নাগালে নেই। সবকিছুর দামই বাড়তি। তারপরও খেতে তো হবে।
চাষের পাবদা আর বড় বেলে মাছ কিনছেন নুরুল ইসলাম। এখানে প্রতি সপ্তাহেই বাজার করেন, তিনিও চাকরিজীবী। জানালেন পাবদা ও বেলে মাছ পছন্দ করেন তিনি। তবে গত সপ্তাহের থেকে এই সপ্তাহে দাম একটু চড়া। তিনি মাঝারি সাইজের চাষের পাবদা কিনলেন সাড়ে সাতশ টাকা কেজি, বেলেও পড়লো সাতশ টাকা কেজি। যা গত সপ্তাহের থেকে কেজিতে ৫০ টাকা বেশি।
উত্তরা আজমপুর কাঁচাবাজার রাজধানীর মোটামুটি অভিজাত কাঁচাবাজারগুলোর একটি। বৃহত্তর উত্তরার ঠিক মাঝখানে ঢাকা-ময়মনসিংহ মূল সড়কের পাশেই অবস্থান হওয়ার কারণে বেশ জমজমাট বাজারটি। মূলত মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্তরাই এই বাজারের মূল ক্রেতা।
শাকসবজি, মাছ-মাংসের আমদানিও এই বাজারে অনেক বেশি। বিশেষ করে মাছের বাজারে বড় বড় মাছের বেশ সমাহার চোখে পড়লো। ১৮ কেজির কাতলা, ১৪ কেজির বাঘাইর, কিংবা ৮ কেজির চিতল মাছ পর্যন্ত রয়েছে। এই সাইজের মাছ রাজধানীর গুটিকয়েক বাজার ছাড়া সাধারণত চোখে পড়ে না। বেশ প্রমাণ সাইজের চিংড়ি মাছেরও সরবরাহ প্রচুর। উঠেছে প্রচুর ইলিশ মাছও। এছাড়া অন্যান্য মাছ তো আছেই।
কিন্তু সকাল সাতটা থেকে দশটা পর্যন্ত বাজারে অবস্থান করেও বাজারে খুব একটা ভিড় চোখে পড়লো না। বড় বড় রুই, কাতলা নিয়ে বসে আছেন মাছ বিক্রেতা ইবরাহীম। জানালেন, আজকে শুক্রবার হিসেবে লোক কম। এই মাছ বিক্রি হওয়া নিয়ে তাই শঙ্কিত তিনি। ক্রেতা না থাকলেও দাম বেশি কেন, জানত চাইলে বলেন, ‘কি করুম কন, পাইকাররা তো আর কম দামে ছাড়ে না। তাই বেশি দাম দিয়া হলেও কিন্যা আনতে হয়। মাছ নিয়া তো বসা লাগবো।’
সবজি বিক্রেতা রবিউলও জানালেন, ক্রেতা সমাগম কম। সবজির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে জানালেন পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ কম। এজন্য তিনি দায়ী করলেন বর্ষাকে। রবিউল বলেন, ‘টানা বর্ষার পর রোদ ওঠার পর অনেক ক্ষেতেই সবজি পইচা গেছে। তার উপর নতুন কইরা আবার বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে পাইকারি বাজারে সবজি কম উঠছে। গত সপ্তাহের থেকে এই সপ্তাহে সব সবজির দামই কেজিতে ১০ টাকা বেশি।
সবজি বিক্রেতা রুবেলকে জিজ্ঞেস করলাম, ক্রেতাদের অভিযোগ আপনারা নাকি সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। অভিযোগ অস্বীকার করে রুবেলের দাবি, দাম বেশি পাইকারি বাজারেই। পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে তারা অসহায়।
সব মিলিয়ে উত্তরা বাজার ঘুরে বোঝা গেল জিনিসপত্রের দাম বেশি। যে কারণে সংসারের বাজেটের হিসাব মেলাতে গিয়ে টানাপড়েনে পড়েছেন মধ্যবিত্তরাও।
বিগত কয়েক মাস ধরে চাল ও মসলার বাজারে কোনো স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা যায়নি। গত দুই সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় দাম বৃদ্ধির কারণে সবজির বাজার এখন লাগামহীন।
শুক্রবার (১১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজার ঘুরে ক্রেতা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
সবজি বাজারের লাগামহীন দর সম্পর্কে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সবজির দাম বাড়ার একমাত্র কারণ প্রবল বৃষ্টিপাত। বৃষ্টিপাতের কারণে আড়ত ও ঢাকায় নিয়ে আসতে সবজি পচে যাওয়া থেকে শুরু করে জমিতে বিভিন্ন সবজির গাছ মারা যাচ্ছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী যোগানের ঘাটতি হচ্ছে, যার ফলে হু হু করে বাড়ছে সবজির দাম।
সবজির দাম সম্পর্কে কারওয়ানবাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. আক্তার হোসেন বলেন, আমরা নিজেরাই সবজির দামের কারণে চিন্তিত। যেখানে সবজির দাম কমে যাওয়ার কথা সেই জায়গায় সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দাম। কিন্তু কবে নাগাদ সবজির দাম কমতে পারে তাও বলতে পারছি না।
সর্বশেষ সবজির বাজার দর অনুযায়ী, প্রতিকেজি পটল ৫০-৬০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা, টমেটো ১৫০ টাকা, শিম ১২০ টাকা, গাঁজর ৫০-৬০, লাউ প্রতিপিস ৩৫-৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫৫-৬০ টাকা, ধনেপাতা ১৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৮০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, জালি কুমড়া প্রতি পিস ৩০-৩৫ টাকা ও প্রতিকেজি বরবটি ৬০-৬৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। প্রায় সব সবজির দামই গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় ১০-২০ টাকা করে মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে।
মাছের বাজারে ক্রেতাদের জন্য খুব বেশি স্বাচ্ছন্দ্য না থাকলেও কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে বাজার।
সর্বশেষ মাছের খুচরা বাজার দর অনুযায়ী ১ জোড়া ৭’শ গ্রাম ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২’শ টাকায়, ৮’শ গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ১৬’শ টাকায় ও এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২২ টাকা। সাতক্ষীরা থেকে আসা প্রতি কেজি বড় সাইজের গলদা চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়, মাঝারি সাইজের বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা ও ছোট সাইজের গলদা চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬৫০। গত কয়েক মাস ধরে বাজারে গলদা চিংড়ির এমন দাম দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শরীয়তপুর থেকে আসা এক কেজি ওজনের রুই মাছ কারওয়ানবাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা, ২-৩ কেজি ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাকা। কারওয়ানবাজারে কাতল মাছ যথাক্রমে ২০০-৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ময়মনসিংহের পাবদা ও পাঙ্গাশ মাছ কেজিপ্রতি যথাক্রমে বিক্রি হচ্ছে ৫০০ ও ১১০ টাকা কেজি। এছড়া তেলাপিয়া মাছ ১২০ টাক কেজি, কইমাছ ১৫০ টাকা কেজি ও শিং মাছ ৩৬০-৩৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতা সুনীল দাশ বলেন, মাছের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে।তবে মাংসের বাজার দর রয়েছে আগের‍ মতোই। সর্বশেষ বাজার দর অনুযায়ী প্রতিকেজি গরুর মাংস ৪৮০-৫০০ টাকা, খাসির মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা ও প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা। এছাড়া প্রতিপিস বড় কক পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা এবং প্রতিপিস ছোট কক পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।







অর্থ ও বাণিজ্য পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com