আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন ও ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী       জাতিসংঘের হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডী'র শরণার্থী ক্যাম্প পরির্দশন      যেভাবে মোবাইল ট্র্যাক করে পুলিশ বা হ্যাকাররা      উ. কোরিয়ার ‘সবচেয়ে কাছে’ দিয়ে মার্কিন বোমারু বিমান উড়ে গেল      অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে সেবা বাণিজ্যের অভিযোগ      রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো এখন বৌদ্ধ মগদের দখলে       নিয়োগ পরিক্ষায় প্রক্সি: ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক দুই জনের কারাদন্ড      
আমদানির পরও বাজারে চালের দাম কমেনি: চালের দাম কমবে নতুন ধানে!
Published : Friday, 11 August, 2017 at 12:30 PM, Count : 195
আমদানির পরও বাজারে চালের দাম কমেনি: চালের দাম কমবে নতুন ধানে!বিডিহটনিউজ,ঢাকা: দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার চাল আমদানি করেছে ঠিকই কিন্তু বাজারে এর প্রভাব নেই। বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে এই প্রধান খাদ্যদ্রব্য।
রাজধানীর দ্বিতীয় বৃহত্তর বাজার শ্যামবাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাল আমদানি হয়েছে। কিন্তু বাজারে তো নেই। যেটুকু এসেছে তাতে কেবল ভারতীয় স্বর্ণা চালের দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু দেশি চালের দাম আগের মতোই আছে। তবে মাঝে মধ্যে এক থেকে দুই টাকা কেজিতে ওঠা-নামা করে।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, এই বাজারে ভারতীয় স্বর্ণা চাল আমদানির আগে কেজিতে ৫০ টাকা ছিল, এখন ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি ২৮ যেটা মোটা চাল বলে পরিচিত সেটা বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৪৯ টাকা দরে। পাইকারিতে ৪৬ থেকে ৪৭ টাকা রাখা হচ্ছে।
চিনিগুড়া পাইকারি ৮০ টাকা, খুচরা ৮৫ টাকা। জিরা নাজির পাইকারি ৫৮ টাকা, খুচরা ৬০ টাকা, মিনিকেট পাইকারি ৫৫ টাকা ও খুচরা ৫৬ টাকা।
দামের তেমন কোনো হেরফের নেই এমন মন্তব্য করে ঢাকা স্টোরের মালিক সম্ভুনাথ বলেন, আমদানির চাল দেখিই না। যা আছে তা খুব একটা না। দাম কমবে কীভাবে! এলসির চাল আসে- এগুলো কই যায় কে জানে। গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে এক থেকে দুই টাকা কেজিতে কম-বেশি।
ব্যবসায়ী মো. সিরাজুল হক জানান, ভারতীয় স্বর্ণা চালের এলসি আসার পর চার থেকে পাঁচ টাকা দাম কমেছে। আর দেশি চাল সব প্রায় আগের মতোই আছে। আমদানির চালে কোনো প্রভাব পড়েনি।

চালের দাম কমবে নতুন ধানে!

এক সপ্তাহ আগে আরেক দফায় কেজিপ্রতি সব ধরনের সরু চালের দাম এক থেকে দেড় টাকা বেড়েছে। তবে ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করায় স্থিতিশীল রয়েছে মোটা চালের দাম।
কমেনি অন্য চালের দাম। বন্যা ও অতি বৃষ্টিতে সরাসরি ধানের ক্ষতি ও উৎপাদন কম হওয়ায় চালের দাম বাড়তি বলে বিক্রেতাদের দাবি। চালের ব্যবসায়ীরা জানান, অগ্রহায়ণ মাসে চাষিদের ঘরে নতুন ধান না উঠা পর্যন্ত সহসাই কমবে না চালের দাম!
শুক্রবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে সরু চালে এক থেকে দেড় টাকা বেড়ে হাজি মোহাম্মদ আব্দুল আলী পাইকারি দোকানে প্রতিকেজি ভালো মানের নাজির ৬০ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানের নাজির বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৫৭ টাকা দরে। এছাড়া সাধারণ মানের মিনিকেট ৫২ থেকে ৫৬, উত্তম মানের মিনিকেট ৫৫ থেকে ৫৬, আটাশ ৪৬ থেকে ৪৮, বাসমতি ৭৪ থেকে ৭৫ ও সিদ্ধ কাটারিভোগ চাল ৭৬ থেকে ৭৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও মানভেদে প্রতিকেজি চিনিগুড়া বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা দরে।
কারওয়ানবাজারের পাইকারি দোকানের মালিক শরিফুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহ আগে চিকন চালে এক থেকে দেড় টাকা বেড়েছে। এই দাম কমেনি। তবে মোটা চালের দাম স্থিতিশীল আছে।
কবে নাগাদ চালের দাম কমবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাষির ঘরে নতুন ধান না উঠা পর্যন্ত চালের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। সরকার চাল আমদানি করলেও দাম কমেনি। এবার ধানের ফলন কম। দেশে ধানের সংকটও।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাবি করে বলেন, দাম কমাতে হলে মোটা চালের পাশাপাশি চিকনও আমদানি করতে হবে। তাহলে সব ধরনের চালের দাম কমতে পারে। কারওয়ানবাজারে মোটা এলসি চাল ৪৩ টাকা দরে বিক্রি হলেও দেশীয় মিলের মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা দরে। এছাড়াও সাধারণ মানের পাইজাম ৪৭ থেকে ৪৮, উত্তম মানের পাইজাম ৪৮ থেকে ৫০, লতা ৫০ থেকে ৫১, মোটা স্বর্ণা ৪৪, চায়না ইরি ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কিছু কিছু পাইকারি চাল ব্যবসায়ী জানান, চাষিদের ধান উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চালের দাম অনেক। পাশাপাশি অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও বন্যায় হাওরে ধানের ক্ষতি হওয়ায় দাম কমছেই না। তারা দাবি করছেন, নতুন ধান না উঠলে চালের দাম আর কমবে না! অরেকটা উপায় হলো সরু চাল আমদানি।
মেসার্স আব্দুল হক রাইস এজেন্সির মালিক মনসুর আহমেদ বলেন, চালের দাম এখন কমবে না, কারণ ধানের দাম বেশি। একজন শ্রমিককে দৈনিক দিতে হয় ৭০০ টাকা। তবে অগ্রহায়ণে যদি ভালো ফসল হয়, তখন একটু নড়াচড়া করতে পারে।
হঠাৎ করে চালের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আব্দুল হক বলেন, বর্ষার কারণে ধান নষ্ট হয়ে গেছে। হাওরে বাঁধ ভাঙাও কারণ। সবমিলিয়ে অনেক চাষি ধান কাটতে পারেননি। বহু জায়গায় বহু ফসল নষ্ট হয়েছে।
এদিকে হঠাৎ করেই চালের এমন দাম বাড়ার পেছনে আড়তদাররা দায়ী করছেন চালকল মিলারদের। অতি মুনাফার লোভে মালিকদের সিন্ডিকেট আকস্মিক দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় হুট করেই চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষের দিকে চালের বাজারে হঠাৎ অস্থিরতা দেখা দেয়। হাওরে ফসলহানিতে কৃষক সর্বস্বান্ত হওয়ায় তখন এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে এ ধাক্কা কাটিয়ে উঠে চালের বাজার স্বাভাবিক হলেও এখন আবারও গরম হাওয়া বইছে চালের বাজারে।







অর্থ ও বাণিজ্য পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com