আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে শেখ হাসিনার ছয় প্রস্তাব: ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐক্যের ডাক      মুন্সিগঞ্জে টেক্সটাইল মিলে আগুনে নিহত ৬      উত্তর কোরিয়াকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকী দিলেন ট্রাম্প      ওয়েস্ট ইন্ডিজের হারে ২০১৯ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করল শ্রীলঙ্কা      ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে মেক্সিকোতে মৃতের সংখ্যা দুইশো ছাড়িয়েছে      পাটের বস্তা ব্যবহার নিয়ে মন্ত্রীদের ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন অসাধু চাল ব্যবসায়ীরা: মীর্জা আজম      বন্যায় যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার চেয়ে বেশি চাল আমদানি করা হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী      
মায়ের বুকের দুধ পানে ৩১ শতাংশ নবজাতকের মৃত্যুরোধ করা সম্ভব
Published : Wednesday, 2 August, 2017 at 12:57 AM, Count : 187
মায়ের বুকের দুধ পানে ৩১ শতাংশ নবজাতকের মৃত্যুরোধ করা সম্ভববিডিহটনিউজ,ঢাকা: কৌটাজাত বা গরুর দুধ কখনোই মায়ের দুধের বিকল্প হতে পারে না। নবজাতকের জন্য মায়ের দুধই আদর্শ। অথচ সৌন্দর্যহানি কিংবা কেবল বুকের দুধের ওপর নির্ভর করতে না পেরে অনেক মা স্তন্যপান থেকে সন্তানকে দূরে রাখছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌন্দর্যহানি তো ঘটেই না। জন্মদানের এক ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ পান করালে ৩১ শতাংশ নবজাতকের মৃত্যু রোধ করা সম্ভব।  
অন্যদিকে, গুঁড়োদুধ পান করালে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, তাদের ঘন ঘন  অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে বেশি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মায়ের দুধে প্রায় ১০০টি উপাদান রয়েছে।এগুলো শিশুর জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। তারা বলছেন, মায়ের সঙ্গে সন্তানের যে নিবিড় সর্ম্পক তার প্রথম এবং প্রধান ধাপ বুকের দুধ পান। এ দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমেই সন্তানের সঙ্গে মায়ের একান্ত সর্ম্পক তৈরি হয়।
বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত মারুফা রহমান প্রথম সন্তান জন্মের পর তাকে বুকের দুধ দেননি শারীরিক সৌন্দর্যহানির কথা ভেবে। একইসঙ্গে তার ভাবনা ছিল, কেবল বুকের দুধ খেলে সন্তানের খাবার পূর্ণ হবে না, তাই তিনি নির্ভর করেছিলেন নামী একটি গুঁড়োদুধ কোম্পানির প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট দুধের ওপরে। কিন্তু মাস তিনেক পর চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তিনি ভুল বুঝতে পারেন। চিকিৎসক তাকে বলেন,বুকের দুধ খেলে জন্মের ছয় মাস পর্যন্ত শিশুর পানি পান করারও দরকার হয় না। মায়ের দুধই শিশুর পানির ঘাটতি পূরণ করে।
আনোয়ার খান মর্ডান মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শারমিন আব্বাসী বলেন, ‘আমরা চাই, মায়েরা সবসময় সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াবেন। জন্মের পরপরই যত দ্রুত সম্ভব সন্তানকে বুকের দুধ দিতে হবে।এমনকি, মা যদি লেবার (প্রসব) টেবিলেও থাকেন, আমরা চেষ্টা করি ওখানেই মায়ের বুকে সন্তানকে দেওয়ার জন্য। যাতে জন্মের পরপরই  শিশুটি শালদুধ পেতে পারে।’ তিনি জানান, শাল দুধেই শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় নিউট্রিশন সবচেয়ে বেশি রয়েছে।এ দুধের মতো পুষ্টিকর আর কিছু নেই।
ডা. শারমিন আরও বলেন, ‘ডেলিভারির পর থেকে সন্তানের ছয় মাস পর্যন্ত বয়সকে বলা হয় “এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিং টাইম”। এই সময়ে যদি কোনও ওষুধ না লাগে তাহলে ওষুধ ছাড়া শিশুর পানি পর্যন্ত দরকার হয় না। মায়ের বুকের দুধপানে নবজাতকের পায়খানা পরিষ্কার হয়। অ্যালার্জি  ও অ্যাজমা হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। একইসঙ্গে শিশুর দুগ্ধ পানের জন্য মায়ের ব্রেস্টকে তৈরি করার বিষয়ও জড়িত।
বুকের দুধ পান করালে সৌন্দর্যহানি হবে-এটি পুরোপুরি ভুল ধারণা উল্লেখ করে ডা. শারমিন আব্বাসী বলেন, ‘প্রেগনেন্সির সময় থেকেই মায়ের ব্রেস্ট তৈরি হতে থাকে। তখন বুকের দুধ পান না করালে বরং নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয় এবং তা ব্রেস্টকে ডিসফিগার করবে।’ তিনি বলেন, ‘একজন কর্মজীবী মা বাইরে যাওয়ার সময় অনায়াসে বুকের দুধ রেখে যেতে পারেন। তা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত ভালো থাকে।  ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করলে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এই তুলে রাখা দুধ শিশুকে খাওয়ানো যাবে। তাতে কোনও সমস্যা হবে না।’
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিলকিস বেগম চৌধুরী বলেন, ‘বুকের দুধ পান করালে নারীদের অনেকগুলো রোগ থেকে দূরে থাকা যায়। বুকের দুধ খাওয়ালে সেটি রোগ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। যেমন ব্রেস্ট ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। বুকের দুধ খাওয়ালে তার শারীরিক গঠন ঠিক থাকবে। বুকের দুধ খাওয়ালে সৌন্দর্য্যহানি হবে এটা পুরোপুরি ভুল ধারণা।’
তিনি বলেন, ‘মায়ের প্রথম দুধ যেটাকে শাল দুধ বলা হয় সেটি নবজাতকের জীবনের প্রথম টিকা। এই দুধ তার রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন হিসেবে কাজ করবে। তার শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া হবে না। বুদ্ধি বিকাশ সুষ্ঠু হবে। বাচ্চার যথাযথভাবে বেড়ে ওঠার জন্য যেসব উপাদান দরকার তার সবকিছু মায়ের বুকের দুধে রয়েছে, যেটা গরুর দুধ বা কোনও কৌটার দুধে নাই।’
বুকের দুধ খাওয়ানোর মধ্য দিয়েই মায়ের সঙ্গে সন্তানের যে সম্পর্ক তা চমৎকারভাবে গড়ে ওঠে।একটি শিশু তার মাকে চিনতে পারে বুকের দুধ খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে। ডা. বিলকিস বেগম চৌধুরী বলেন,‘এ কারণে কোনও শিশু যখন কাঁদতে থাকে, তখন সে কেবল তার মায়ের কোলে গেলেই কান্না থামায়। এই সর্ম্পক আর কিছু দিয়ে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।’
ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের পরিচালক খুরশিদ জাহান বলেন, ‘অনেক মা-ই আছেন, যারা দুধ পাচ্ছে না ভেবে দুধ খাওয়াতে চান না। কিন্তু মায়ের বুকে দুধ একটা ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই সিস্টেম অনুসরণ করে তৈরি হয়। তার মানে, শিশু যত দুধ খাবে তত মায়ের পিটুইটারি গ্রন্থি উদ্দীপ্ত হবে, বেশি প্রলেকটিন হরমোন তৈরি করবে।’







স্বাস্থ্য পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com