আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন ও ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী       জাতিসংঘের হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডী'র শরণার্থী ক্যাম্প পরির্দশন      যেভাবে মোবাইল ট্র্যাক করে পুলিশ বা হ্যাকাররা      উ. কোরিয়ার ‘সবচেয়ে কাছে’ দিয়ে মার্কিন বোমারু বিমান উড়ে গেল      অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে সেবা বাণিজ্যের অভিযোগ      রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো এখন বৌদ্ধ মগদের দখলে       নিয়োগ পরিক্ষায় প্রক্সি: ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক দুই জনের কারাদন্ড      
রাজধানী ঢাকাকে যখন নদী বলে ভুল হয়
দীন ইসলাম
Published : Wednesday, 12 July, 2017 at 1:36 PM, Update: 13.07.2017 6:44:35 PM, Count : 38829
রাজধানী ঢাকাকে যখন নদী বলে ভুল হয়ঢাকা: চারিদিকে থই থই পানি। তার মাঝে দিয়ে চলছে বাস, কারসহ বিভিন্ন যানবাহন। দেখে মনে হবে কম পানির নদীর উপর দিয়ে পার হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। সারা রাজধানী জুড়েই এমন চিত্র। 
মিরপুর যেন নদী ভাঙ্গনে তলিয়ে যাওয়া কোন নগরীর নাম। মিরপুর থেকে কালসী হয়ে উত্তরা যাওয়ার ব্যস্ত রাস্তায় পড়ে সাংবাদিক কলোনী। কালসীর ব্যস্ত সড়কে সাংবাদিক কলোনীর সামনে হাটু পানি, কখনও কোমর সমান পানি হচ্ছে। সিএনজিতে করে যারা উত্তরা থেকে এসেছে তারা আর যেতে না পেরে মধ্যখানে দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে কখন পানি কমে। পানি কিন্তু আর কমার নাম নেই। ফলে বিকল্প রাস্তার সন্ধান করতে দেখা গেছে।
মিরপুর থেকে মতিঝিল পাওয়ার পথে মিরপুর ১০, কাজীপাড়াতেও নদীর পানি যেন বইছে। এই প্রতিবেদকের ক্যামেরায় ফুটে উঠেছে কাজীপাড়ায় প্রধান সড়কের সেই ছবি।
‘অ্যাই যে পানি পার দশ টাকা, পানি পার দশ টাকা।’ বুধবার (১২ জুলাই) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানের দক্ষিণ গেটের সামনে দাঁড়িয়ে এভোবেই কোরাস সুরে পানি পারাপারের জন্য যাত্রীদের ডাকাডাকি করছিলেন একাধিক ভ্যানচালক। কবরস্থান গেটের সামনে অসংখ্য মানুষ জটলা বেধে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ অফিসে, কেউ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কেউবা গার্মেন্টস বা ব্যক্তিগতভাবে কাজে বেরিয়েছেন। কিন্তু কবরস্থান গেটের সামনে এসে সবাই থমকে দাঁড়িয়েছেন।
কবরস্থান গেট থেকে নীলক্ষেত মোড় পর্যন্ত রাস্তা বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। যেন অচেনা কোনো এক নদী। গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসসহ ইঞ্জিনচালিত যানবাহনগুলো দ্রুত চলে যাওয়ার সময় দু’পাশে পানির ঢেউ আছড়ে পড়ছে। এ ছাড়া নিউমার্কেট সংলগ্ন বড় ডাস্টবিনের ময়লা পানিতে ভাসছে। কেউ কেউ নিরুপায় হয়ে এক মিনিটের পায়ে হাটার পথ ১০ টাকা দিয়ে পার হচ্ছেন। আবার কেউ জামা কাপড় ভিজিয়ে গন্তব্যে ছুটে যাচ্ছেন। রাস্তার ম্যানহোলের ঢাকনাগুলো খুলে দিয়ে পানি অপসারনের ব্যর্থ চেষ্টাও দেখা যায়।
কবরস্থানের গেটে দাঁড়িয়ে সিটি মেয়রের সমালোচনা করছিলেন আনুমানিক ষাট বছরের এক বৃদ্ধ। বলছেন, ‘মেয়র সাহেব তো বক্তৃতায় নগর উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরতে গিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন। কিন্তু কই এই যে জলাবদ্ধতার কারণে হাজার হাজার মানুষের দুভোর্গ হচ্ছে এর সমাধান তো করতে পারছেন না। নিউমার্কেটের মতো এলাকায় যদি এমন পানি জমে থাকে তবে কী যে উন্নয়ন হচ্ছে তা সহজেই বোঝা যায়।’
এদিকে, গন্তব্যে ছুটে চলা মানুষদের জন্য টাকার বিনিময়ে সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন ভ্যানচালকরা। অন্যদিকে এক মিনিটের রাস্তা পার হতে জনপ্রতি গুণতে হচ্ছে ১০ টাকা। 
কবরস্থান গেট সংলগ্ন আইয়ুব আলী কলোনীর জামাল নামে একজন কেয়ারটেকার জানান, ভোর বেলা ভ্যানচালকরা জনপ্রতি পাঁচ টাকায় নীলক্ষেত পর্যন্ত পারাপার করলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে রেট দ্বিগুণ অর্থাৎ দশ টাকা করে ফেলেন।
রিপন নামের এক ভ্যানচালক বলেন, ‘এমনিতেই ভ্যান চালানো আর পানি ঠেইল্যা মানুষ ভর্তি ভ্যান চালানোর মধ্যে বিরাট পার্থক্য। তাছাড়া ডাস্টবিনের সব ময়লা পানিতে মিইশ্যা ভেজা পা খালি চুলকাইতেছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রি হলের ছাত্রী রোকেয়া সুলতানা জানান, এখন কবরস্থানের সামনে পানি দেখা গেলেও ভোরে তাদের হলের সামনে হাটু পানি ছিল। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে নগরপিতার কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, এ অবস্থা থেকে কী নগরবাসী পরিত্রাণ পাবে?
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। রেকর্ড পরিমাণেএ বৃষ্টিপাতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে গেছে। আর এর ফলে দুভোর্গের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র যানজট।
গতকাল মঙ্গলবার (১১ জুলাই) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সেটাই সত্যি হলো। তবে অন্য সব অঞ্চলের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে ঢাকায়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ৬০ মিলিমিটার। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বুধবার (১২ জুলাই) ভোর ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীতে এ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টির এই ধারা আরও অন্তত তিনদিন থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতর আরও বলছে, গতকাল (সোমবার) ভোর ছয়টা থেকে বুধবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত ঢাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১০৩ মিলিমিটার। যা অন্য সব বিভাগীয় শহরের চেয়ে বেশি। এরপরেই রয়েছে রাজশাহী। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এ তালিকায় পর্যায়ক্রমে রয়েছে ময়মনসিংহ ২৮, সিলেট ১৯, খুলনায় ৬, বরিশালে ৬, চট্টগ্রাম ৫ ও রংপুর ৪। 
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে অধিদফতর জানায়, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর বলেছে, বৃষ্টিপাতের এ ধারা আরও তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে।







জাতীয় পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com