আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
এক অঙ্গে দুইরুপ: এক পাশে রাজকীয় অন্য পাশে চলে মফিজ ট্রেন      অপরাধী চক্রে রোহিঙ্গাদের জড়িয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় বাংলাদেশ      আরাকান রোহিঙ্গা সলভেনশন আর্মি যেভাবে পরিচালিত হয়      ‘দুই এমপি’ সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠানে অন্যতম বাধা: ড. কামাল      মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে আটটি সংস্থার তালিকা বিনিময়: আসছে যৌথ অভিযান      রোহিঙ্গা সংকটে জাতিসংঘের ‘দৃঢ় ও দ্রুত’ পদক্ষেপ চায় যুক্তরাষ্ট্র: বাংলাদেশকে আর্থিক সহায়তা      রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে মিয়ানমার: ফরাসি প্রেসিডেন্ট      
কাজে আসছে না প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বৈদ্যুতিক বেড়া প্রকল্প
শাকিল মুরাদ
Published : Wednesday, 12 July, 2017 at 1:46 AM, Count : 140
কাজে আসছে না প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বৈদ্যুতিক বেড়া প্রকল্পশেরপুর : শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে কাজে আসছে না বন্য হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সোলার পাওয়ার ফেন্সিং ও বায়োলজিক্যাল ফেন্সিং প্রকল্প। 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে ২০/২৫টি বন্য হাতির দল ভারতের আসাম থেকে দলছুট হয়ে গারো পাহাড়ে ঢুকে পড়ে। সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীদের (বিএসএফ) বাধায় হাতিগুলো আবাসস্থলে ফিরে যেতে পারেনি। হাতির সংখ্যা এখন একশ ছাড়িয়েছে। ধান ও কাঁঠাল পাকার সময় লোকালয়ে হাতির উপদ্রব বাড়ে। গত ডিসেম্বর মাসে হাতির উপদ্রব উদ্বেগজনকভাবে বাড়ার ফলে বনবিভাগের উদ্যোগে সোলার পাওয়ার ফেন্সিং ও বায়োলজিক্যাল ফেন্সিংয়ের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়। সৌরবিদ্যুতের এই বেড়া নির্মাণ কাজ শেষে হাতি লোকালয়ে ঢুকতে পারিনি। ফলে পাহাড়ী গ্রামবাসী প্রায় ৪ মাস নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পেরেছেন। কিন্তু বছর না ঘুরতেই এখন আর সৌরবিদ্যুতের এই বেড়া কাজে আসছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ার চারমাসের মাথায় বেড়ায় ব্যবহƒত ব্যাটারি অকেজো হয়ে গেছে। যে কারণে হাতির আক্রমণের আশঙ্কায় লাখো মানুষ দিন পার করছে।
কাজে আসছে না প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বৈদ্যুতিক বেড়া প্রকল্পজেলা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, হাতির আক্রমণে এ উপজেলায় ২০১৬ সালে ১০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫ শতাধিক মানুষ। অন্যদিকে হাতি মারা গেছে ৪টি। ক্ষতি হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলী জমি। এ অবস্থায় বনবিভাগ হাতি-মানুষের সহাবস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। হাতির উপদ্রুব থেকে বাঁচতে ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা ও আফ্রিকার দেশগুলোর আদলে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বিশ্বব্যাংকের ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার সীমান্তে ১১ কিলোমিটার ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তে ২ কিলোমিটার সোলার পাওয়ার ফেন্সিং ও বায়োলজিক্যাল ফেন্সিংয়ের নির্মাণ কাজ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ করে বনবিভাগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে ঢাকার নিউ ন্যাশন সোলার লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। 
কাজে আসছে না প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বৈদ্যুতিক বেড়া প্রকল্পকিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করে নির্মাণকারি প্রতিষ্ঠান নিউ ন্যাশন সোলার লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার মো. কামরুল আনম বলেন, ব্যাটারি নয়, বিভিন্ন সময়ে বেড়ার তারে গুল্মলতা আকড়ে ধরছে, স্থানীয়রা বনের ভিতর প্রবেশের সময় তারের বেড়া থাকা দুটি তার উপরে তুলে এক করে দেন। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে সর্ট সার্কিট এসব কারণেই কাজ করছেনা বৈদ্যুতিক তাড়ের বেড়া।  
উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের তাওয়াকুচা গ্রামের পনির আহম্মেদ (৩০) বলেন, সোলার পাওয়ার ফেন্সিং ও বায়োলজিক্যাল ফেন্সিং প্রকল্পে নিন্মমানের ব্যাটারী ব্যবহৃত করায় সোলারের বেড়া কাজ করে না। ফলে এ তাড়ের বেড়া অকোজো হয়ে আছে। ওই ইউনিয়নের ছোটগজনী গ্রামের মাঝি মারাক (৭০) বলেন, ব্যাটারি এখন কাজ করতাছে (করছে)  না। হাতি এখন সোলার ফ্যাসিং এর তার ছিঁইড়া (ছিঁড়ে) গ্রামের ভিতর ঢুইকা পড়তাছে। আর ছোট বাচ্চা হাতিগুলা অনায়াসে যাওয়া আসা করে। আমাদের গাছের কাঁঠাল আর কলা গাছ খাইয়া শেষ কইরা ফালাইতাছে।
কাজে আসছে না প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বৈদ্যুতিক বেড়া প্রকল্পউপজেলার কাংশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সোলার ফেনন্সিং একেবারে অকোজো। সরকারের ৯১ লাখ টাকা অকোজো হয়ে পড়ে আছে। হাতির যে দিক দিয়ে মন চায় সেই দিক দিয়েই লোকায় প্রবেশ করছে। বৈদ্যুতিক তারের বেড়া অকোজো হওয়ার বিষয়টি রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা চেয়ারম্যান কে অবহিত করেছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সোলার ফ্যান্সিং মেরামতের দাবি জানিয়েছেন তিনি। 
রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সোলার ফ্যাসিং এর ব্যাটারি ঠিকমতো চার্জ হচ্ছেনা। এ সুযোগে হাতি ফ্যান্সিং এর তার নষ্ট করছে। সোলার ফ্যাসিং এর কাজ সঠিক হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। 
তবে এই বন কর্মকর্তার অভিযোগ অস্বীকার করে নির্মাণকারি প্রতিষ্ঠান নিউ ন্যাশন সোলার লিমিটেডের পরিচালক শাহ আহসান হাবিব বাবু বলেন, বৈদ্যুতিক বেড়া এবং এর যন্ত্রাংশ সঠিকভাবে পরিচালনা না করার কারনেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 
ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পর তা রক্ষণাবেক্ষণে লোক নিয়োগ দেয়নি। সোলার ফ্যান্সিং তদারকির জন্য একজন ইলেকট্রিশিয়ান থাকলে সে রেগুলার সমস্যাগুলো চিহিৃত করতে পারতো। এটাই এখন বড় সমস্যা। এ্যালিফেন্ট রেসপন্স টিম থাকলেও সোলার ফ্যাসিং এর তারে লাতাপাতা জড়ালে বা ডালপালা পড়ে থাকলেও তা কেউই পরিস্কার করেনা। 
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এজেডএম শরীফ হোসেন বলেন, বৈদ্যুতিক বেড়া মেরামতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালককে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।







জাতীয় পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com