আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
নাগরিক সমাবেশে এমপিদের পোস্টার নিয়ে শো-ডাউন করল কর্মী-সমর্থকরা      আ,লীগ নেতা জাফরউল্যাহ'র পানামা পেপারসের পর বিএনপি নেতা মিন্টুর প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারি      আত্রাইয়ে কালি মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর      মার্কিন কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হবে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য       সমাবেশে না আসলে বেতন কাটা যাবে: বিএনপির মহাসচিব      সিএনজি চালকদের উবার ও পাঠাও বন্ধে কর্মসূচি দেওয়ায় ক্রুদ্ধ যাত্রীরা      কাঠালিয়ায় ইউএনও-পিআইও দ্বন্দ্বে চাল আত্মসাতের কাহিনী ফাঁস!      
শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখেই সমঝোতার পথ খুঁজছে বিএনপি!
Published : Sunday, 9 July, 2017 at 2:26 AM
শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখেই সমঝোতার পথ খুঁজছে বিএনপি!বিডিহটনিউজ,ঢাকা: আওয়ামী লীগ নেতারা এক বাক্যেই বলছেন, সংবিধানের বাইরে কিছুই হবে না। তবে আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে- সেটা ধরে নিয়েই জোর কদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। অপেক্ষাকৃত কঠিন লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচনের দিকে নজর দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে বর্তমান এমপিদের অনেকেরই ভাগ্য বিপর্যয় ঘটতে পারে।
অন্যদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হেলিকপ্টারে করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন আর অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোকে কোনো কথা বলার সুযোগ দিচ্ছেন না। আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে কখনোই কোনো সরকার চিরস্থায়ী নয়। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু হতে হবে। নির্বাচনকে অবাধ হতে হবে। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের কাছে এবং বহির্বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। এজন্য সরকারকে বাধ্য করতে হবে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নিজেদের জন্য বৈরী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন প্রশ্নে সমঝোতার পথ খুঁজছে বিএনপি। এক্ষেত্রে দলটিতে আগে থেকেই দুটি মত রয়েছে। একটি অংশ মনে করে, বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় নির্বাচনে অংশ নিয়ে কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। অন্য অংশটি মনে করে, প্রধানমন্ত্রী পদে শেখ হাসিনাকে বহাল রেখেও নির্বাচনে বিএনপির ভালো করা সম্ভব। এ অংশের মতের প্রকাশই দেখা যায়, একটি জাতীয় দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপির অন্যতম পরামর্শক হিসেবে পরিচিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ১২৩(৩)(খ) ধারা কার্যকর করা হলেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ‘নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন। সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে না কিংবা পৃথক তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনেরও প্রয়োজন নেই। তখন সংসদ ভেঙে যাবে, বর্তমান মন্ত্রিসভাও থাকবে না। নির্বাচনকালীন রুটিন কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দলের কিছু নেতাকে নিয়ে সবার গ্রহণযোগ্য একটি ছোট মন্ত্রিসভা গঠন করবেন। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করবে। ওই সময়ে যেসব কর্মকর্তা নির্বাচনী কাজে সহায়তা করবেন তারাও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন।’
প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদের এ মতের ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে দলটির কেউ কেউ মনে করেন, আগ বাড়িয়ে এমন মন্তব্য করা উচিত নয়। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কয়েক মাসের মধ্যেই নির্বাচনী সহায়ক সরকারের ফর্মুলা উপস্থাপন করবেন। সংবিধানের ভেতরে-বাইরে দুই ধরনের প্রস্তাবনা নিয়েই বিএনপির ভেতরে আলোচনা রয়েছে। তবে কোনো ধরনের ফর্মুলা দেয়ার আগে লন্ডনে যাবেন খালেদা জিয়া। সহায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি সীমিত পর্যায়ে আন্দোলনেও যেতে পারে।
ওদিকে, নির্বাচন পদ্ধতি প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাই বিএনপির প্রস্তাবিত ‘সহায়ক সরকার’ পদ্ধতিকে পাত্তাই দিতে চায় না দলটি। তাদের বক্তব্য- নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। আর নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে শেখ হাসিনার সরকার। তাই শেখ হাসিনার সরকারই সহায়ক সরকারের ভূমিকা পালন করবে। এটাই সংবিধানের নিয়ম। আওয়ামী লীগ তাদের এ অবস্থানে শেষ পর্যন্ত অনড় থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপি যে সহায়ক সরকারের দাবি করে আসছে তা সংবিধানে রয়েছে বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। তাদের বক্তব্য বিএনপি অজ্ঞতার কারণে অথবা জনগণকে সহায়ক সরকার নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এটা তাদের পরিকল্পিত পদক্ষেপ। আওয়ামী লীগ সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না- নেবেও না। আগামী নির্বাচন পদ্ধতি প্রসঙ্গে দলটির শীর্ষ কয়েক নেতার সঙ্গে কথা বললে তারা এ অনড় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, বিএনপি এখন যে সহায়ক সরকারের দাবি জানাচ্ছে, তা মানতে গেলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সোজা কথা, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে হবে। এক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন, নির্বাচনে সব দলই আসতে পারে। তারপরও যদি কেউ নির্বাচনে আসতে না চায়- এটা তাদের সিদ্ধান্ত। এদিকে দলের অপর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অহেতুক মাঠ গরম করার জন্যই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ নিয়ে কথা বলছেন। এসব কথা কোনো কাজে আসবে না। নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী সঠিক সময়েই হবে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিএনপি আসলে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তাদের লক্ষ্যটা কি তা নিয়েই তো জনমনে সন্দেহ রয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে নানান অসত্য তুলে ধরে জনগণকে বিভ্রান্ত করাই এখন বিএনপির মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, বিএনপি যে সহায়ক সরকারের কথা বলছে তাতো আমাদের সংবিধানেই রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, দেশের যেকোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। নির্বাচনকালীন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তার মূল দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা। যেন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকে নির্বাচন কমিশনের হাতে। সে অনুযায়ী ওই সময় বদলি বা রদবদল ইসি করে থাকে। ওইসময় সরকার তাদের রুটিন ওয়ার্ক করবে। এসব বিষয় সংবিধানে স্পষ্ট করা আছে। তাই এনিয়ে নতুন করে কথা বলার মানে হয় না। আসলে বিএনপি জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করতেই এসব কথা বলছে। আমি মনে করি এ নিয়ে নতুন করে আলোচনার কিছু নেই। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংবিধানেই সবকিছু বাতলে দেয়া আছে। সংবিধান অনুসরণ করলেই আমরা সে পথে পৌঁছাতে পারবো।
যদিও অন্য একটি সূত্র দাবী করছে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রেখেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে চায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।এ লক্ষ্যে দল দু’টি একটি সমঝোতার কৌশলও খুঁজছে। এক্ষেত্রে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে দল দু’টি। যদিও পরিচয় উদ্ধৃত হয়ে কোনও নেতা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
বিএনপি নেতারা বলছেন, কোনোভাবেই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবেন না তারা। খালেদা জিয়ার আসন্ন সহায়ক সরকারের প্রস্তাবনায় দশম জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবি থাকতে পারে। আর এটি মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতার সঙ্গে কথা বলেও। তাদের মতে, সংসদ ভেঙে দিলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা অক্ষুণ্ন থাকবে।
তবে সংসদ ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মত দিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। তাদের যুক্তি, সংসদ ভেঙে দিয়ে যদি নির্বাচনের দিকে আওয়ামী লীগ যায়, তাহলে মাঠের নেতাদের মনোবল ভেঙে যাবে। ভোটের আগেই নৈতিক পরাজয় ঘটবে।
সংবিধানের আলোকেই নির্বাচন হবে, ক্ষমতাসীন দলের অনড় অবস্থানের কারণে ইতোমধ্যেই বিএনপির উপলব্ধি এই মুহূর্তে সংবিধানের মধ্যে থেকেই নির্বাচনে যেতে হবে তাদের। তবে আন্দোলনের কথাও ক্ষীণস্বরে বলছেন তারা। সংবিধান থেকেই নির্বাচনকালীন সরকার কী হবে, এ নিয়ে কৌশল নির্ধারণ করতে মরিয়া দলটি। গত ১ জুলাই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যও ইঙ্গিতবহ। ওইদিন এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে সহায়ক সরকারের অধীনে, যেখানে এই সরকারের কোনও ভূমিকা থাকবে না।’
সংবিধানের ৫৭ ধারার ৩ উপধারায় বলা আছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোনও কিছুই অযোগ্য করিবে না।’  অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ততক্ষণ পর্যন্ত স্বপদে বহাল থাকলে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনিই ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। আর এ বিষয়টিকে মাথায় রেখেই আওয়ামী লীগের কোনও কোনও নেতা সংসদ ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংবিধান সম্মতভাবে আগামী নির্বাচন হবে। এক্ষেত্রে কোনও আপস হবে না। সংবিধানসম্মত মানে শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন। এ নিয়মকে আমরা ধরে রাখব।’
এদিকে ‘সংবিধানের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু এই সংবিধানে কি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছিল না?’ এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের ইচ্ছাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে ১৯৯১ সালে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে দিয়ে প্রধান করে নির্বাচন করা হয়েছিল, সেভাবে এবারও হবে।’ তার ভাষ্য, ‘সরকার চাইলে পারবে, সংবিধান সংশোধন করবে।’
সংসদ ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে দুই দলের সমঝোতা সম্পর্কে জানতে চাইলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ‘এটাও সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। আমরা নির্বাচনে যেতে চাই, আমাদের নির্বাচনে আনাও সরকারের দায়িত্ব।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষমতাসীন দলের দুই শীর্ষনেতা বলেন, ‘সমঝোতা হতে পারে সংসদের মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী তিন মাস আগে নয়, তিন মাস পরে নির্বাচন হবে, তা নিয়েই। কারণ পরবর্তী তিন মাস পরে নির্বাচন হলে সংসদ থাকবে না, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা থাকবে ঠিকই। সংসদ থাকবে না সংবিধানের ভেতরে থাকা এই অনুচ্ছেদ নিয়ে হয়ত ছাড় দেওয়া-নেওয়ার একটি পরিবেশ তখন তৈরি হতে পারে।’  
প্রসঙ্গত, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ এ বলা আছে, সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
(ক) মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভাঙিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে; এবং
(খ) মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোনও কারণে সংসদ ভাঙিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে।
ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতা বলেন, ‘‘বিএনপির সহায়ক সরকারের প্রস্তাব সংবিধান মেনেই দিতে হবে। তারা যদি মনে করে, সেটাই সহায়ক সরকার তার অধীনে নির্বাচনে আসবে তাতে ‘মোস্ট ওয়েলকাম’ বিএনপিকে।’’
নীতি-নির্ধারকরা আরও বলছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রস্তাব হলো সংবিধানের বাইরে যাওয়া যাবে না। আর সংবিধানের ভেতরে থেকে নির্বাচন হওয়া মানেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচন। নীতি-নির্ধারকরা বলছেন, সংবিধানের মধ্যে থেকে যদি সমঝোতা সুযোগ থাকে সেক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা আওয়ামী লীগের ভেতরে রয়েছে। আর এটা মেনে বিএনপি নির্বাচনে এলে অন্য বিষয়গুলো সমাঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সহায়ক সরকারের নামে সংবিধান ও শেখ হাসিনার বাইরে গিয়ে সহায়ক সরকারের নামে অনড় থাকলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে সরকার কোনও পদক্ষেপ নেবে না।
বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যে শেখ হাসিনাকে রেখেই নির্বাচনের বিষয়টিকে না বললেও ভেতরে-ভেতরে তাকে মেনে নিয়েই প্রস্তুতি চলছে। এর বাইরে বিএনপির সামনে আপাতত কোনও বাস্তবতা নেই বলেই দলটির নেতারা মনে করেন। দলের এক প্রভাবশালী ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে শাশ্বত। তাদের বাদ দিয়ে কিছু চলবে না। আমরা আলোচনায় বিশ্বাসী। তবে সরকার না মানলে আন্দোলনে যেতে পারি। আর নির্বাচনে শেখ হাসিনার প্রয়োজন আছে কিনা, সেটিও ভাবা যাবে।’
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার থাকার বিষয়টি মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে স্থায়ী কমিটির প্রবীণ এক সদস্যের কথায়ও। তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন—এই তিন বিভাগকে নিউট্রাল রোল প্লে করতে হবে। এসব বিভাগে কোন পার্টির লোক বসবে, দ্যাট ইজ ডিফারেন্স, এই তিনটি বিভাগ যদি নিউট্রাল ওয়েতে কাজ করে, তাহলে বিএনপি উইন। যেকোনও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিকে এই তিনটি পদে দেওয়া যেতে পারে। খালেদা জিয়ার হাতে থাকবে না, শেখ হাসিনারও না।  বিষয়টি দুই পার্টির জন্যই মঙ্গল।’
শেখ হাসিনাকে রেখেই সমঝোতার বিষয়ে আশাবাদী কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সবই সম্ভব। আওয়ামী লীগ তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে সার্ভে করেছে। ওই সার্ভে তারা দেখেছে তাদের অবস্থা ভালো না। জনগণ  জানিয়েছে, তারা নিজেরা ভোট দিতে চায়। যে ভোট গণনা করে প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। এজন্য লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে হবে।’
এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘সহায়ক সরকারের মূল কনসেপ্ট হচ্ছে দলীয় সরকারের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করা। আর আমরা একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকব না। কয়েকটি প্রস্তাব দেব।’
উল্লেখ্য, বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াকে ফোন করে ৫টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছিল।







রাজনীতি পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com