আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
দলের কেউ কাজে বাধা দিলে জানাবেন, ব্যবস্থা নেবো: ওবায়দুল কাদের      নির্বাচনকালীন ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা চান ইসির মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা      ঝালকাঠিতে কৃষক হত্যা মামলায় তিন জনের মৃত্যুদন্ড      জলাবদ্ধতার শহর ঢাকা: জলজটের কারণে যানজট সাথে গণপরিবহনের সংকট      পাকিস্তান বিশ্বাসঘাতক, পিছন থেকে ছুরি মেরেছে, তারা মিরজাফর: আমেরিকা      চীনের এলাকায় ঢোকার কথা ‘স্বীকার’ করেছে ভারত: চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়াং য়ি      নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণ পাওয়া সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা      
জেনে নিন
আইনের দৃষ্টিতে কখন ধর্ষন ও কখন সম্মতিতে যৌন আচরণ
Published : Monday, 15 May, 2017 at 5:04 AM, Update: 21.06.2017 3:44:32 PM, Count : 589
আইনের দৃষ্টিতে কখন ধর্ষন ও কখন সম্মতিতে যৌন আচরণ ডেস্ক রিপোর্ট: মানুষ মাত্রই যৌন চাহিদা রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে যৌন চাহিদা নিবারণার্থে একজন পুরুষ একজন নারীকে বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করতে পারে। সেক্ষেত্রে বল প্রয়োগ ও ছল চাতুরীর আশ্রয় নেওয়ার কারণে যৌন কর্ম ধর্ষণে রূপ নিতে পারে।
সাধারণ অর্থে ধর্ষণ বলতে আমরা একজন পুরুষের সঙ্গে একজন নারীর তার সম্মতি ব্যতিরেকে যৌনসঙ্গমকে বুঝি। আইনের ভাষায় ধর্ষণের সংজ্ঞা ভিন্নতর। ধর্ষণ একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।
বাংলাদেশের মূল দণ্ড আইন দণ্ডবিধির ধারা নং ৩৭৫-এ ধর্ষণের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ধারাটিতে বলা হয়েছে- যদি কোনো ব্যক্তি, নিন্মোক্ত ০৫ (পাঁচ) প্রকার বর্ণনাধীন যে কোনো অবস্থায় কোনো নারীর সঙ্গে যৌন সহবাস করে; তবে উক্ত ব্যক্তি ‘ধর্ষণ’ করেছে বলে গণ্য হবে।
আইনের দৃষ্টিতে কখন ধর্ষন ও কখন সম্মতিতে যৌন আচরণ প্রথমত, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে; দ্বিতীয়ত, তার সম্মতি ব্যতিরেকে; তৃতীয়ত, তার সম্মতিক্রমে, যে ক্ষেত্রে তাকে মৃত্যু বা আঘাতের ভয় প্রদর্শন করে তার সম্মতি আদায় করা হয়; চতুর্থত, তার সম্মতিক্রমে, যে ক্ষেত্রে লোকটি জানে যে, সে তার স্বামী নয় এবং নারীটি এ বিশ্বাসে সম্মতিদান করে যে, পুরুষটির সঙ্গে সে আইনানুগভাবে বিবাহিত অথবা সে নিজেকে আইনানুগভাবে বিবাহিত বলে বিশ্বাস করে; পঞ্চমত, তার সম্মতিক্রমে বা ব্যতিরেকে, যে ক্ষেত্রে সে ১৪ বছরের কম বয়স্ক হয়।
ধারাটির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, অনুপ্রবেশী নারী ধর্ষণের অপরাধরূপে গণ্য হওয়ার যোগ্য যৌন সহবাস অনষ্ঠানের নিমিত্ত যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে। ধারাটির ব্যতিক্রমে উল্লিখিত হয়েছে, কোনো পুরুষ কর্তৃক তার স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সহবাস স্ত্রীর বয়স ১৩ বছরের কম না হলে ধর্ষণ বলে গণ্য হবে না।
উপরোক্ত সংজ্ঞাটি থেকে স্পষ্টত প্রতিভাত, একজন পুরুষ একজন নারীর সঙ্গে বলপূর্বক যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হলে সেটি ধর্ষণ এবং নিজ বিবাহিত স্ত্রীর বয়স ১৩ বছরের কম হলে তার সঙ্গে যে কোনো ধরনের যৌনসঙ্গমও ধর্ষণ। যে ব্যক্তি বলপূর্বক যৌনসঙ্গম করে, তাকে বলা হয় ধর্ষক আর যে নারী এরূপ যৌনসঙ্গমের শিকার হয় তাকে বলা হয় ধর্ষিতা।
ধর্ষণের সাজার বিষয়টি দণ্ডবিধির ধারা নং ৩৭৬-এ উল্লিখিত হয়েছে। ওই ধারাটিতে বলা হয়েছে- যদি কোনো ব্যক্তি ধর্ষণের অপরাধ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম অথবা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে। ধর্ষিত নারী যদি ধর্ষকের স্ত্রী হয় এবং স্ত্রীর বয়স যদি ১২ বছরের কম হয়, সে ক্ষেত্রে সাজার মেয়াদ হবে সশ্রম অথবা বিনাশ্রম ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ড।
ধর্ষণের অপরাধটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অধীনও একটি অপরাধ। আইনটির ধারা নং ৯ ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু, ইত্যাদির শাস্তিবিষয়ক। ওই ধারায় বলা হয়েছে- (১) যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
উপরোক্ত ধারা নং (১)-এর ব্যাখ্যায় উল্লিখিত হয়েছে- যদি কোনো পুরুষ বিবাহবন্ধন ব্যতীত ১৬ বছরের অধিক বয়সের কোনো নারীর সঙ্গে তার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তার সম্মতি আদায় করে, অথবা ১৬ বছরের কম বয়সের কোনো নারীর সঙ্গে তার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌনসঙ্গম করে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করেছে বলে গণ্য হবে।
ধারাটির উপধারা (২)-এ বলা হয়েছে- যদি কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এর অতিরিক্ত অন্যূন ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
ধারাটির উপধারা (৩)-এ বলা হয়েছে- যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা ধর্ষিত নারী বা শিশু আহত হন, তাহলে ঐ দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এর অতিরিক্ত ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
ধারাটির উপধারা (৪)-এ বলা হয়েছে- যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে- (ক) ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে; (খ) ধর্ষণের চেষ্টা করে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক ১০ বছর; কিন্তু অন্যূন ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
ধারাটির উপধারা (৫)-এ বলা হয়েছে- যদি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন কোনো নারী ধর্ষিত হন, তা হলে যাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্তরূপ ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছে, সে ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ ধর্ষিতা নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরিভাবে দায়ী ছিলেন, তিনি বা তারা প্রত্যেকে, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হলে, হেফাজতের ব্যর্থতার জন্য, অনধিক ১০ বছর; কিন্তু অন্যূন ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এর অতিরিক্ত অন্যূন ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এ ধর্ষণের কোনো পৃথক সংজ্ঞা না দিয়ে বলা হয়েছে, দণ্ডবিধির ধারা নং ৩৭৫-এ ধর্ষণের যে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে ওই সংজ্ঞা এ আইনের অধীন সংঘটিত ধর্ষণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। দণ্ডবিধির ধারা নং ৩৭৫-এ ধর্ষণের যে পরিধি দেয়া হয়েছে, তা থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা নং ৯-এ বর্ণিত ধর্ষণের পরিধি অধিকতর বিস্তৃত।
শেষোক্ত আইনে ধর্ষণের ফলে মৃত্যু বা ধর্ষণকালে মৃত্যু বা ধর্ষণ করার পর ধর্ষিতার মৃত্যু বা তদসম্পর্কীয় কারণে জখম এবং ধর্ষণের চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে। তা ছাড়া শেষোক্ত আইনে সুনির্দিষ্টভাবে নারীর পাশাপাশি শিশু ধর্ষণের বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
দণ্ডবিধি একটি সাধারণ আইন, অপরদিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ একটি বিশেষ আইন। আইনের বিধান অনুযায়ী একই অপরাধ দুটি আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য হলে বিশেষ আইন সাধারণ আইনের ওপর প্রাধান্য পায়। দণ্ডবিধি প্রণয়নের ১৪০ বছর পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ প্রণীত হয়।
এ বিষয়ে আইনের বিধান হল, পরবর্তীকালে প্রণীত আইন পূর্বে প্রণীত আইনের ওপর প্রাধান্য পায়। অতএব ধর্ষণের ক্ষেত্রে উভয় বিবেচনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ওপর প্রাধান্য পায়। আর এ কারণে বিশেষ আইনটি প্রণয়ন-পরবর্তী ধর্ষণসংক্রান্ত মামলার তদন্ত ও বিচার দণ্ডবিধির অধীন সংঘটিত না হয়ে এ বিশেষ আইনটির অধীন হয়ে আসছে।
ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে ধর্ষিত নারী বা শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এ পরীক্ষাটি ধর্ষণ সংঘটন হওয়া পরবর্তী কোনোরূপ কালক্ষেপণ না করে যথাশিগগির সম্পন্ন হওয়া জরুরি। ডাক্তারি পরীক্ষায় যে কোনো ধরনের বিলম্ব ধর্ষণ প্রমাণের ক্ষেত্রে প্রায়ই অন্তরায় হিসেবে দেখা দেয়।
নারী বা শিশুর অসম্মতিতে এবং নারী বা শিশুকে বলপূর্বক বা ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক যেসব ধর্ষণ সংঘটিত হয়, এর অধিকাংশই সঙ্গোপনে অথবা লোকচক্ষুর অন্তরালে সংঘটিত হওয়ার কারণে ধর্ষিতা ছাড়া অপর কোনো চাক্ষুষ সাক্ষী পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়ে। এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারি সনদসহ পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রকৃতপক্ষে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছে কিনা এ বিষয়ে বিচারিক আদালত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়।
এমন অনেক ধর্ষণ সংঘটিত হয়, যেসব ক্ষেত্রে ধর্ষিতা কর্তৃক ধর্ষক দ্বারা ধর্ষিত হওয়ার অভিযোগ উত্থাপন-পরবর্তী সময়ে ধর্ষকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ধর্ষিতার সম্মতিতে যৌনসঙ্গম হয়েছে বিধায় এটি ধর্ষণ নয়। এরূপ ক্ষেত্রে ধর্ষণকালীন ধর্ষিতার সম্মতি ছিল এটি সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণের দায়িত্ব ধর্ষকের ওপর বর্তায়।
ষোলো বছরের ঊর্ধ্বের বয়সের যে কোনো নারীর সঙ্গে তার সম্মতিতে যৌনসঙ্গম ধর্ষণ না হলেও যৌনসঙ্গম পরবর্তী সময়ে নারীটির পক্ষ থেকে যদি দাবি করা হয়, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে সম্মতি আদায় করা হয়েছে সে ক্ষেত্রে যৌনসঙ্গমকে ধর্ষণের আওতায় আনতে হলে অবশ্যই ভয়ভীতি ও প্রতারণার বিষয়টি ধর্ষিতা দ্বারা প্রমাণিত হওয়া অপরিহার্য।
অনেক সময় যুবতী নারীর ক্ষেত্রে সতীচ্ছেদকে যৌনসঙ্গম বা ধর্ষণের পক্ষে দেখা হয়; কিন্তু যৌনসঙ্গম বা ধর্ষণ ব্যতিরেকে খেলাধুলা, শরীরচর্চা বা কায়িক পরিশ্রমের কারণে সতীচ্ছেদ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় সতীচ্ছেদ এককভাবে যৌনসঙ্গম বা ধর্ষণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণের সহায়ক নয়।
ধর্ষণ অপরাপর অপরাধের মতো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কৃত অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত হওয়ায় ধর্ষকের বিচারের দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত।








আইন আদালত পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com