আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
নাগরিক সমাবেশে এমপিদের পোস্টার নিয়ে শো-ডাউন করল কর্মী-সমর্থকরা      আ,লীগ নেতা জাফরউল্যাহ'র পানামা পেপারসের পর বিএনপি নেতা মিন্টুর প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারি      আত্রাইয়ে কালি মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর      মার্কিন কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হবে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য       সমাবেশে না আসলে বেতন কাটা যাবে: বিএনপির মহাসচিব      সিএনজি চালকদের উবার ও পাঠাও বন্ধে কর্মসূচি দেওয়ায় ক্রুদ্ধ যাত্রীরা      কাঠালিয়ায় ইউএনও-পিআইও দ্বন্দ্বে চাল আত্মসাতের কাহিনী ফাঁস!      
ঢাকা ১৬ আসনের রাজনীতির নতুন সমীকরণ
Published : Monday, 12 September, 2016 at 6:21 PM
ঢাকা ১৬ আসনের রাজনীতির নতুন সমীকরণনিজস্ব প্রতিবেক: হঠাৎই বদলে গেল ঢাকা ১৬ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ। কিছুদিন আগে পর্যন্ত ঢাকা ১৬ আসনের এমপি’র তেমন কোন শক্ত প্রতিদন্ধী ছিল না। গত নির্বাচনে সতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নেওয়া একমাত্র প্রতিদন্ধী এস এম মান্নান কচি প্রকাশ্যে এমপি ইলিয়াস মোল্লা’র প্রতিদন্ধী থাকলেও বাস্তবে তার কোন প্রভাব ছিল না। এক সময়কার দূর্দান্ত নেতা এস এম মান্নান কচি বিজিএমইএ’র সহ সভাপতি ছাড়া রাজনৈতিক তেমন কোন পদ পদবী ছিল না। তাই কচি পন্থি আওয়ামীলীগ নেতারা ছিলেন কোন ঠাসা। একক ভাবে এমপি ইলিয়াস মোল্লা নিয়ন্ত্রণ করতেন সম্পূর্ণ ঢাকা ১৬ আসন। এমপি ইলিয়াস মোল্লা’র দীর্ঘদিনের একক কর্তৃত্বের মাঝে ঘরে বাইরে বিদ্রোহের দেখা দিয়েছিল কিছুদিন থেকে। ভাগ বটোয়ারায় গন্ডগোল, পদ-পদবীসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েই বিদ্রোহের সূত্রপাত। তারপরও বিদ্রোহ দেখা দিলেও তা ছিল নীরব বিদ্রোহ। প্রকাশ্যে সকলে এমপি ইলিয়াস মোল্লা’র কর্তৃত্ব মেনেই চলত। ব্যতিক্রম ছিল শুধু মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লা। তিনি বারবারই নানা ভাবে সমস্যা তৈরী করছিলেন। তাই তাকে রাজনীতিতে এক ঘরে করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু, হঠাৎই সকল হিসেব নিকেশ পাল্টে গেল ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি ঘোষনার সাথে সাথে। এস এম মান্নান কচিকে ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটির প্রথম যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক করার মাধ্যমে রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আবার ফিরে পেলেন এস এম মান্নান কচি।
ইতিপূর্বে বিজিএমইএ নিয়ে ব্যস্ত থাকা এস এম মান্নান কচি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার কথা শুনা যাচ্ছিল গত কিছুদিন থেকেই।তিনি ঘন ঘন এলাকায় আসছিলেন। ব্যক্তি এস এম মান্নান কচি সম্পর্কে তেমন কোন অভিযোগ না থাকলেও তার ভাইদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ ছিল। কিন্তু, বর্তমানে তিনি শক্ত হাতে ভাইদের নিয়ন্ত্রণ করার ফলে তার ভাবমূর্তি আবার ফিরে পাচ্ছিলেন। অন্যদিকে মিরপুরের রাজনীতিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা স্বেচ্ছাসেবকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু’র সম্পূর্ণ সমর্থনও তার পক্ষে অনুকূল পরিবেশ তৈরী করে। এস এম মান্নান কচি যদিও বিজেএমইএ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, কিন্তু এস এম মান্নান কচি’র অনুসারী, গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু ছিলেন সক্রিয় রাজনীতিতে। মিরপুর এলাকার যে কোন মিছিল মিটিংয়ে সর্বোচ্চ জন সমাগম ঘটে গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু উপস্থিত থাকলে। এমন অবস্থায় গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু’র নিশর্ত সমর্থনও বিশাল পাওয়া হয় এস এম মান্নান কচি’র জন্য। 
সব মিলিয়ে বেশ ভাল অবস্থানই তৈরী করছেন নতুন পদ পাওয়া এস এম মান্নান কচি। অন্যদিকে প্রকাশ্যে এমপি ইলিয়াস মোল্লা’র সমর্থন দিলেও যুবলীগ মহানগর উত্তরের সভাপতি মাঈনুল হোসেন খান নিখিল নিজেই আগামী নির্বাচনে এমপি হিসেবে ঢাকা ১৬ আসন থেকে প্রতিদন্ধীতা করার ইচ্ছে পোষন করেন। যদিও প্রকাশ্যে তিনি তার ইচ্ছে প্রকাশ করছেন না। কিন্তু, ভিতরে ভিতরে চালাচ্ছেন নির্বাচনের প্রস্তুতি। সদালাপী যুবলীগ মহানগর উত্তরের সভাপতির রয়েছে বিশাল কর্মী ও সমর্থক গোষ্ঠী। হিসেব যদি মিলে সেক্ষেত্রে নির্বাচনের আগে হয়তো মঈনুল হোসেন নিখিল বা এস এম মান্নান কচি যে কোন একজনকে নমিনেশান দেওয়া দাবী আসতে পারে দু’জনের পক্ষ থেকে। এমন কিছু হলে সকল সমীকরণ উল্টে যেতে পারে।
অন্যদিকে ইলিয়াস মোল্লা’র রয়েছে বড় কর্মী-সমর্থক গোষ্ঠী। রূপনগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী রজ্জব হোসেন, ২ নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর উত্তর যুবলীগের সহ সভাপতি আশিকুল ইসলাম আশিক, পল্লবী থানা যুবলীগ সভাপতি তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি হলো এমপি ইলিয়াস মোল্লা’র মূল ভরসা। কিন্তু, এমপি ইলিয়াস মোল্লা’র মূল স্তম্ভ যারা তাদের অনেককেই শুনা যাচ্ছে এমপি ইলিয়াস মোল্লা’র সাথে ভিতরে ভিতরে সু-সম্পর্ক নেই। মূল স্তম্ভদের কেউ কেউ আবার গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এস এম মান্নান কচি’র সাথে। এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই এমপি ইলিয়াস মোল্লা’র অবস্থান নড়বড়ে হয়ে গেছে। ইলিয়াস মোল্লা ইতিহ্যবাহী মোল্লা পরিবারের সন্তান হওয়ায় তাদের রয়েছে অসংখ্য পারিবারিক সমর্থক। যারা মোল্লা পরিবারের যেই নির্বাচন করুক তাকে ভোট দিবে। ইলিয়াস মোল্লা’র গ্রাম আলকদী গ্রাম তার ভোট ব্যাংক হিসেবে সব সময় অভির্ভূত হয়। এমপি হিসেবে ইলিয়াস মোল্লা নির্বাচনে নমিনেশান না পেলে তার ভাই এখলাস উদ্দিন মোল্লা যদি সতন্ত্র থেকে দাড়ায়, সেক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ হারাবে একটি বড় ভোট ব্যাংক। শুধুমাত্র এই হিসেবেই এমপি হিসেবে নমিনেশান আগামীবারও ইলিয়াস মোল্লাই পাবে বলে বিশ্বাস তার অনুসারীদের। যদি আগামীবার এমপি নমিনেশান ইলিয়াস মোল্লা পায়ও, কিন্তু বর্তমানে চলা এমপি ইলিয়াস মোল্লা’র একক কর্তৃত্ব ক্ষন্ন হচ্ছে শীঘ্রই বলে সকলে ধারনা করছে। মূলতঃ এস এম মান্নান কচি ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রথম যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরই এমন ধারণা ঢাল পালা ছড়াচ্ছে।
যদি আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়, সেক্ষেত্রে কালসী আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, জমি দখল, চাদাবাজীসহ ইলিয়াস মোল্লা'র বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন অভিযোগ আবার সামনে আসবে বলেও ধারনা করছেন অনেকে। মিরপুর এলাকায় বিহারীরা একটি বড় ভোট ব্যাংক হওয়াও ইলিয়াস মোল্লা'র বিরুদ্ধে যাবে। কেননা, বিহারীরা এখনও বিশ্বাস করে ইলিয়াস মোল্লা-ই কালসীতে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা ঘটনার জন্য দায়ী। সেক্ষেত্রে ঢাকা ১৬ আসনের সমিকরণ সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে বলে বিশ্বাস করে স্থানীয়রা।








রাজনীতি পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com