আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
কুমিল্লায় সিভিল সার্জন অফিসের নাম ভাঙ্গিয়ে চলছে ভুয়া হাসপাতাল ও ভুয়া ডাক্তার       বিএনপিতে রাজনীতিকরা উপেক্ষিত: ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের জয়জয়কার!      রামপুরা থানা আওয়ামীলীগের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত নেতারা!      নিষিদ্ধ বিট কয়েনের গোপন বাজারে ছদ্মনামে লেনদেন      বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়াতে মানবপাচারের নতুন রুট ইন্দোনেশিয়া       দিনদিন বাড়ছে ডাক্তারের সংখ্যা: গত পাঁচ বছরে ২৫ হাজার এমবিবিএস ডাক্তার      ডিএনসিসি উপনির্বাচন: আদালতের মাধ্যমে উপনির্বাচন স্থগিত করার আশঙ্কাই সত্য হলো      
একান্ত সাক্ষাৎকারে দেলোয়ার হোসেন ফারুক
দেশীয় সফটওয়্যার, আইটিএস এবং ই-কমার্সের উন্নয়নে কাজ করতে চাই
Published : Tuesday, 14 June, 2016 at 2:13 AM
দেশীয় সফটওয়্যার, আইটিএস এবং ই-কমার্সের উন্নয়নে কাজ করতে চাইসফটওয়্যার প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের প্রধান সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) এর আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তরুণ তথ্য প্রযুক্তি উদ্যোক্তা েডিশন ডিজিটাল টেকনোলজি লিমিটেডের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ফারুক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাষ্টার্স শেষ করে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবসাকে বেছে নিয়েছিলেন দেলোয়ার হোসেন ফারুক। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবসা ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডেও সক্রিয় তিনি। তিনি কুমিল্লার লাকসামে প্রতিষ্ঠা করেছেন নিজ উদ্যোগে স্কুল এন্ড কলেজ। তার প্রতিষ্ঠিত কলেজের সাফল্যও বলার মতো। সব চেয়ে বড় বিষয় তার কলেজে পড়া-শুনা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করানো হয়। এছাড়াও দৈনিক আমাকের কাগজ পত্রিকার প্রকাশনা এবং সম্পাদনাও করেন দেলোয়ার হোসেন ফারুক। পরিবর্তন ফাউন্ডেশান নামে একটি এনজিও-এর মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা মূলক কর্মকান্ডে যুক্ত তিনি। ইতিমধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রার্থীদের মাঝে তরুণ প্রার্থী হিসেবে সকলের দৃষ্টি  আকর্ষন করেছেন।উল্লেখ্য তিনি বিশিষ্ট তথ্য-প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বারের নেতৃত্বাধীন ডিজিটাল ব্রিগেড প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। বিডিহটনিউজের সাথে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান বেসিস নিয়ে তার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন বিডিহটনিউজের ষ্টাফ রিপোর্টার আবু তাহের মোঃ শামসুজ্জামান।


 প্রশ্ন : বেসিস নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী হলেন কেন?
 উত্তর : বেসিস তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত সংগঠন। বেসিস নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি অঙ্গন সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বেসিস তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের সঙ্গে কাজ করছে।  দেখুন, বেসিস হচ্ছে দেশীয় সফটওয়্যার, ই-কমার্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক সেবা (আইটিএস) খাতের প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র সংগঠন।  আর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে সফটওয়্যার, ই-কমার্স এবং আইটিএস খাতের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এই খাতে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার কোটি টাকার বাজার তৈরি হয়েছে।  দেশে ভালো মানের সফটওয়্যার নির্মাতাদের যদি প্রমোট করা যায় তবে গার্মেন্টের পরেই বৈদেশিক মুদ্রা আহরণে অন্যতম খাত হতে পারে এটি।  ১৬ কোটি মানুষ মানে ১৬ কোটি ভোক্তা। সুতরাং ই-কমার্সেও আমাদের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে।  একইভাবে আইটিএস খাতের কথাও উল্লেখ করা যেতে পেরে। আর এই তিনটি সম্ভাবনাময় খাতের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হচ্ছে বেসিস। ফলে এই শিল্পের উন্নয়নে কাজ করতে হলে বেসিসই হতে পারে কাঙ্খিত লক্ষ্য। এই লক্ষ্য পূরণেই আমি বেসিস নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।

প্রশ্ন : নির্বাচিত হলে লক্ষ্য পূরণে কত টুকু কাজ করতে পারবেন বলে মনে করছেন?
উত্তর : আমি আশাবাদী ভাল কিছু করা সম্ভব।কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে ‘ভিশন ২০২১’ ঘোষণার পর আমরা দেখতে পাচ্ছি কত দ্রুত বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি ঈষর্ণীয়। বাংলাদেশ টানা তিনবার জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা উইসিস অ্যাওয়ার্ড জিতেছে। এটি সম্ভব হয়েছে আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় তরুণ আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় বেসিস সহযোগী হিসেবে দারুণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে বেসিসের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শামীম আহসানের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। তার একান্ত প্রচেষ্টায় বেসিস আজ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশের শীর্ষ সংগঠনে পরিণত হয়েছে। আমি এখানে আরও একজনের কথা বলতে চাই। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বার। তাদের কর্মযজ্ঞ দেখে আমি ভীষণ ইন্সপায়র্ড হই। আমি প্রত্যাশা করি, বাংলাদেশকে বদলে দেওয়া আইসিটি অঙ্গনের এই নেত্বত্বের সহযোগিতায় বেসিস নিয়ে আমার স্বপ্ন এবং লক্ষ্য ভালোভাবেই পূরণ করতে পারব। 
দেশীয় সফটওয়্যার, আইটিএস এবং ই-কমার্সের উন্নয়নে কাজ করতে চাইপ্রশ্ন  : আপনি মোস্তফা জব্বারের নেতৃত্বে ডিজিটাল ব্রিগ্রেড প্যানেল থেকে নির্বাচন করছেন। সাফল্যের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদি?
উত্তর :  দেখুন আমি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এ খাতের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট রয়েছি। আপনি একটা খাতের উন্নয়নে কাজ করতে চাইলে আন্তরিকতা, সততা  এবং অভিজ্ঞতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্যানেলে দিকে খেয়াল করুন, এখানে মোস্তফা জব্বারের মতো বর্ষিয়ান প্রযুক্তিবিদ, সংগঠক এবং নেতা রয়েছেন। তেমনি যে কোনো দায়িত্ব পালনের মতো যোগ্য ব্যক্তিত্ব রাসেল টি আহমেদ কিংবা উত্তম কুমার পালের মতো সংগঠকও রয়েছেন। ফারহানা এ রহমান  থেকে শুরু করে রাশেদুল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, আহমেদুল ইসলাম বাবু , রিয়াদ হোসেনসহ আমাদের প্যানেলের প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, আন্তরিকতা এবং সততার মাধ্যমে বেসিসের উন্নয়নে সকলেই দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করে যাচ্ছেন। তাই আশা করছি আমরাই সফল হব।

প্রশ্ন  :ভোটারদের কাছে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি হিসেবে কী কী অঙ্গিকার করছেন?
উত্তর : আমাদের প্যানেল থেকে সুনির্দিষ্ট ইশতেহার তো রয়েছেই। আমরা সফটওয়্যার খাত এবং বেসিস মেম্বার কোম্পানির উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়ার কথা বলছি। বেসিস সদস্যদের উন্নয়ন হলে, সফটওয়্যার খাতের উন্নয়ন হবে।  দেশের উন্নয়ন হবে।  
এ ক্ষেত্রে আমি ব্যক্তিগতভাবে বেসিসের বাৎসরিক যে সফটওয়্যার প্রদর্শনী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের পাশাপাশি ‘বেসিস সফটএক্সপো’ পুনরায় আয়োজন করার জন্য কাজ করব। 
বেসিস সদস্যদের চাঁদা না বাড়িয়ে কল্যাণ তহবিল গঠন করতে চাই। কল্যাণ তহবিলের মাধ্যমে বেসিস সদস্যদের কেউ অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করতে না পারলে সহায়তা দেওয়া হবে। বেসিসের কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবারকে এককালীন সহায়তা দেওয়া হবে। এটা আমি চালু করতে চাইব।
পিপিআর সংশোধনের মাধ্যমে সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে দেশীয় কোম্পানির অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করব। বাৎসরিক সদস্য নবায়ন ফি যেটি রয়েছে এটি অনেক কোম্পানির জন্যই খানিক বেশি বলা যায়। বাৎসরিক সদস্য নবায়ন ফি কমানো চেষ্টা করব।
বেসিস থেকে ব্রাক ব্যাংক কার্ড ব্যবহারের জন্য বেসিস অতিরিক্ত কোনো চার্জ যেন না নেয় এ উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমি নির্বাচিত হলে এ ধরনের অতিরিক্ত চার্জ যেন না নেওয়া হয় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বেসিস সদস্যদের সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়ে প্রতি দুই মাস অন্তর অন্তর মিটআপ আয়োজন করা হবে। এখানে বেসিস সদস্য কোম্পানির সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। বিশেষায়িত সফটওয়্যার নিয়ে তিন মাস অন্তর মেলা অয়োজন অব্যাহত থাকবে। 

প্রশ্ন  :আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী ?
উত্তর :আমি আসলে দেশের জন্য কিছু করতে চাই। দেশের স্বার্থে যেন নিজেকে কাজে লাগাতে পারি এ চেষ্টাটা সবসময় থাকে আমার।  ইতিমধ্যে আমি কুমিল্লার লাকসামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি। আর যেহেতু এখন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে তথ্যপ্রযুক্তি বড় হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এখন বেসিসের মাধ্যমে  দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পেলে আনন্দিত হব। আশা করছি বেসিস সদস্য বন্ধুরা আমাকে সে সুযোগটি দিবেন।








তথ্য-প্রযুক্তি পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com